Trump Immigration Policy
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বর্তমানে এক গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য, প্রযুক্তি, ভূ-রাজনৈতিক কৌশল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর ভারত সফর আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু এই সফরের মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন সংক্রান্ত একটি সম্ভাব্য কঠোর অবস্থান (Trump Immigration Policy) নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ভারতীয় পেশাজীবী, H-1B ভিসাধারী এবং দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা ভারতীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের সম্ভাব্য নতুন নীতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনার বিষয়ে প্রশাসন চিন্তাভাবনা করছে। বর্তমানে বহু বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিরা দেশের অভ্যন্তরে থেকেই নিজেদের অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারেন। কিন্তু নতুন প্রস্তাবিত নীতিতে সেই সুযোগ সীমিত করা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
যদি এই পরিবর্তন কার্যকর হয়, তাহলে বহু আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে পুনরায় প্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে হতে পারে। এর ফলে শুধু সময়ই বাড়বে না, বরং ভিসা প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত জটিলতা, অনিশ্চয়তা এবং প্রশাসনিক বাধার মুখোমুখি হতে হতে পারে বহু মানুষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে ভারতীয়দের উপর, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মী হিসেবে ভারতীয়দের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য।
বিশেষত তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য পরিষেবা, আর্থিক পরিষেবা, গবেষণা, প্রকৌশল এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ কাজ করেন। প্রতিবছর H-1B ভিসা প্রাপকদের মধ্যেও ভারতীয়দের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই বহু বছর ধরে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইন অনুযায়ী দেশভিত্তিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভারতীয় আবেদনকারীদের অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। নতুন নিয়ম এলে সেই অপেক্ষা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন “America First” নীতির অংশ হিসেবে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছিল। সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা, ভিসা নিয়ম কঠোর করা এবং বিদেশি কর্মীদের জন্য নিয়োগ নীতিতে (Trump Immigration Policy) পরিবর্তন আনার মতো সিদ্ধান্ত সেই সময় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতীয়দের নিয়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হল, দক্ষ পেশাজীবীদের একটি বড় অংশ সরাসরি এই নীতির আওতায় পড়তে পারেন।
অন্যদিকে মার্কো রুবিওর ভারত সফরও কূটনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তাঁর সফরে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অংশীদারিত্ব এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক কৌশলগত সমীকরণেও ভারত-আমেরিকা সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন দুই দেশ কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে অভিবাসন নীতি নিয়ে কঠোর অবস্থান ভারতীয়দের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ অর্থনীতি ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতীয় পেশাজীবীদের অবদান মার্কিন শ্রমবাজারেও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অভিবাসন নীতির যেকোনও বড় পরিবর্তন শুধু ব্যক্তি পর্যায়েই নয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। তবে সম্ভাব্য এই পরিবর্তনের খবর সামনে আসার পর থেকেই ভারতীয় অভিবাসী সমাজ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। আগামী দিনে মার্কিন প্রশাসন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে বহু মানুষের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।