Durgapur new wards
কলকাতা ও হাওড়ার পর এবার দুর্গাপুর নগর নিগমেও বাড়ছে ওয়ার্ডের সংখ্যা। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, দুর্গাপুর নগর নিগমের ওয়ার্ড সংখ্যা ৪৩ থেকে বেড়ে ৫৩ হতে চলেছে। অর্থাৎ নতুন করে যুক্ত হচ্ছে ১০টি ওয়ার্ড।
রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর গত ৩১ অগস্ট এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে দুর্গাপুরের জন্য ৫৩টি ওয়ার্ড নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। জনসংখ্যা, জনঘনত্ব, ভৌগোলিক পরিস্থিতি, ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং আর্থিক বিষয় বিবেচনা করেই ওয়ার্ডের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এতদিন দুর্গাপুর নগর নিগমে মোট ৪৩টি ওয়ার্ড ছিল। নতুন নির্দেশিকা কার্যকর হলে সেই সংখ্যা বেড়ে হবে ৫৩। ফলে প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে দুর্গাপুরে।
সরকারি নির্দেশিকার প্রতিলিপি ইতিমধ্যেই রাজ্য নির্বাচন কমিশন, পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক, দুর্গাপুর নগর নিগমের কমিশনার এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
একই নির্দেশিকায় শিলিগুড়ি পুরনিগমের জন্য ৬৩টি ওয়ার্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন পুর এলাকায় ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগের মধ্যে দুর্গাপুরে ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। দুর্গাপুজোর পর পুর নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
দুর্গাপুরে দীর্ঘদিন পুর নির্বাচন না হওয়া এবং নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অভিযোগের মধ্যেই নতুন ওয়ার্ড বিন্যাসের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। ফলে আগামী পুর নির্বাচনের আগে এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন, দুর্গাপুর নগর নিগমের পরিধি ও কাঠামো নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
বিধায়কের বক্তব্য, দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ মানুষ নাগরিক পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। নতুন ওয়ার্ড তৈরি হলে প্রশাসনিক কাজ আরও বিকেন্দ্রীভূত করা সম্ভব হবে এবং নাগরিকদের কাছে দ্রুত পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যাবে।
ওয়ার্ডের সংখ্যা বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে তাই শুধু প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস নয়, নাগরিক পরিষেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার পদক্ষেপ হিসেবেও দেখানো হচ্ছে।
তবে নতুন ওয়ার্ডগুলির সীমানা কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং এর ফলে আগামী পুর নির্বাচনের সমীকরণে কী পরিবর্তন আসবে, তা এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। সরকারি নির্দেশিকা বাস্তবায়নের পরেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।