Matthew VanDyke
ভারতে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত মামলায় তিহাড় জেলে বন্দি মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইকের জন্য মার্কিন সরকারের কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ চাইল তাঁর পরিবার। ভ্যানডাইকের প্রতিষ্ঠিত সংগঠন ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’-এর মাধ্যমে তাঁর পরিবার দাবি করেছে, বন্দি অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে দিল্লির একটি আদালত জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা NIA-কে ভ্যানডাইকে জেলে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে। আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর তিহাড় জেলে তাঁকে এবং ইউক্রেনীয় নাগরিক কামিনস্কিই ভিক্টরকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা রয়েছে। দু’জনই বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
NIA-র অভিযোগ, ভ্যানডাইক এবং তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ইউক্রেনীয় নাগরিকরা ভারত ও প্রতিবেশী মিয়ানমারে সক্রিয় জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে একটি ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
মার্চে ভ্যানডাইককে কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর সঙ্গে আরও ছয় ইউক্রেনীয় নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন বা UAPA-র অধীনে মামলা করা হয়েছে। অভিযোগগুলির তদন্ত এখনও চলছে।
ভ্যানডাইকের পরিবার ও তাঁর সংগঠন দাবি করেছে, তিহাড়ে থাকার সময় তাঁর পায়ে চোট, দৃষ্টিশক্তির সমস্যা এবং শারীরিক দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁকে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হয়নি এবং আমেরিকায় থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের সুযোগও সীমিত করা হয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, তাঁর আইনজীবীরা দিল্লির আদালতে ব্যক্তিগত হাসপাতালে চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অনুমতি চেয়েছিলেন। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, ১ জুন আদালত ওই আবেদনগুলি খারিজ করে। তাঁর মা, যাঁর বয়স ৮০-র বেশি, কয়েক মাস আগে মাত্র পাঁচ মিনিটের একটি জরুরি ফোনকলের সুযোগ পেয়েছিলেন বলেও পরিবার দাবি করেছে।
পরিবার এখন মার্কিন সরকারের কাছে দ্রুত কূটনৈতিক হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। পরিবারের বক্তব্য, তাঁরা মার্কিন কংগ্রেসের বিভিন্ন দফতর এবং স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন।
পরিবারের দাবি, ভারতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গোর মে মাসে দিল্লি সফরের সময় ভ্যানডাইকের বিষয়টি ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিশ্রি এবং মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিওর কাছে তুলে ধরেছিলেন। তবে ভ্যানডাইকের পরিবারের এই দাবির বিষয়ে মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কোনও সরকারি পদক্ষেপের ঘোষণা এখনও সামনে আসেনি।
ম্যাথিউ ভ্যানডাইক নিজেকে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, যুদ্ধ সংবাদদাতা ও তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে পরিচয় দেন। ২০১১ সালে লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পর তিনি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিতি পান। পরে তিনি ‘সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিষ্ঠা করেন, যে সংগঠন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ ও কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার কথা বলে।
তবে ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ অনুযায়ী, ভারতে তাঁর কর্মকাণ্ড শুধু একটি বেসরকারি সংগঠনের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না এবং তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তার ষড়যন্ত্রে যুক্ত ছিলেন। এই অভিযোগেরই তদন্ত করছে NIA।
মামলার তদন্ত চলার মধ্যেই আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর তিহাড় জেলে NIA-র জিজ্ঞাসাবাদ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ভ্যানডাইকের পরিবার মার্কিন সরকারের হস্তক্ষেপের জন্য চাপ বাড়াচ্ছে।