• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Android fake apps warning

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ! এই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে, সতর্ক করল কেন্দ্র

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছড়ানো কিছু ক্ষতিকারক Android অ্যাপ নিয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্র। ‘Night Play’, ‘Kyss’, ‘Vimo’-সহ কয়েকটি অ্যাপ APK হিসেবে ইনস্টল করলে Accessibility permission-এর অপব্যবহার করে ফোনের নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপনের ফাঁদ! এই অ্যাপ ডাউনলোড করলেই নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে হ্যাকারদের হাতে, সতর্ক করল কেন্দ্র

Android fake apps warning

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 1, 2026 9:02 pm
  • Update:September 1, 2026 9:02 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেখে অচেনা অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে সাবধান! অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সতর্কবার্তা জারি করেছে কেন্দ্র। পর্নোগ্রাফিক কনটেন্টের আড়ালে ছড়ানো কিছু ক্ষতিকারক অ্যাপের মাধ্যমে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এবং ব্যাঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা।

‘ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম থ্রেট অ্যানালিটিক্স ইউনিট’ (NCTAU), যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন ইন্ডিয়ান সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (I4C)-এর একটি শাখা, এই বিষয়ে সতর্ক করেছে। ২৬ অগস্ট প্রকাশিত সতর্কবার্তায় বেশ কয়েকটি সন্দেহজনক অ্যাপের নামও উল্লেখ করা হয়েছে।

‘নাইট প্লে’, ‘কিস’-সহ একাধিক অ্যাপের নাম

সতর্কবার্তায় ‘Night Play’, ‘Reloop’, ‘Kyss’, ‘Vimo’, ‘Rivo’, ‘Nexo’ এবং ‘Vixa’-র মতো অ্যাপের নাম উঠে এসেছে। এগুলি মূলত পর্নোগ্রাফিক অ্যাপের ছদ্মবেশে ব্যবহারকারীদের ফোনে ঢোকার চেষ্টা করে।

প্রতারণার শুরু হতে পারে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামে দেওয়া আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন থেকে। বিজ্ঞাপনে উত্তেজক ছবি বা ভিডিয়োর অংশ দেখিয়ে ব্যবহারকারীকে ক্লিক করতে প্রলুব্ধ করা হয়। এরপর তাঁকে এমন ওয়েবসাইটে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখান থেকে গুগল প্লে স্টোরের বাইরে APK ফাইল ডাউনলোড করতে বলা হয়।

APK ইনস্টল করলেই বিপদ?

এই ধরনের অ্যাপ ফোনে ইনস্টল করার পর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুমতি চাইতে পারে। বিশেষ করে ‘Accessibility’ permission চালু করিয়ে নেওয়াই এই প্রতারণার অন্যতম বড় অস্ত্র।

ব্যবহারকারী সেই অনুমতি দিয়ে দিলে ক্ষতিকারক অ্যাপ ফোনের স্ক্রিন পড়তে, OTP বা PIN-এর মতো সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিতে এবং ডিভাইসের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে। এর মাধ্যমে অননুমোদিত আর্থিক লেনদেনের ঝুঁকি তৈরি হয়।

কিছু ক্ষেত্রে এই অ্যাপ অতিরিক্ত প্যাকেজ বা অ্যাপ ইনস্টল করতে পারে। এমনকি VPN ইনস্টল করে ফোনের ইন্টারনেট ট্র্যাফিক আক্রমণকারীদের নিয়ন্ত্রণাধীন সার্ভারের মাধ্যমে চালানোর চেষ্টাও হতে পারে।

কী ভাবে ফাঁদে পড়ছেন ব্যবহারকারীরা?

পুরো প্রতারণার প্রক্রিয়াটি সাধারণত কয়েকটি ধাপে এগোয়—

প্রথম ধাপ: Facebook বা Instagram-এ আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন।
দ্বিতীয় ধাপ: বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে সন্দেহজনক ওয়েবসাইটে পৌঁছনো।
তৃতীয় ধাপ: Google Play Store-এর বাইরে থেকে APK ডাউনলোড করা।
চতুর্থ ধাপ: অ্যাপকে অতিরিক্ত permission দেওয়া।
পঞ্চম ধাপ: Accessibility-এর অপব্যবহার করে ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া।
ষষ্ঠ ধাপ: ব্যক্তিগত তথ্য, OTP, PIN বা ব্যাঙ্ক সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে আর্থিক প্রতারণা।

কেন্দ্রীয় সতর্কবার্তায় বিশেষ করে Google Play Store বা অন্য বিশ্বস্ত app store ছাড়া কোনও জায়গা থেকে APK ফাইল ডাউনলোড না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ফোনে এমন অ্যাপ থাকলে কী করবেন?

ইতিমধ্যে সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল হয়ে গেলে সেটিকে দ্রুত সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ফোন Safe Mode-এ restart করে সন্দেহজনক অ্যাপ uninstall করতে বলা হয়েছে।

অ্যাপটি সরানো না গেলে তার Accessibility permission বন্ধ করতে হবে। কোনও Device Administrator privilege দেওয়া থাকলে সেটিও বাতিল করতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অচেনা অ্যাপকে অপ্রয়োজনীয় permission দেওয়া যাবে না। বিশেষ করে Accessibility, SMS, notification বা অন্য সংবেদনশীল তথ্যের access চাওয়া হলে সতর্ক হওয়া জরুরি।

কেন্দ্রের এই সতর্কবার্তা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে—সোশ্যাল মিডিয়ার একটি বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে APK ডাউনলোড করার ছোট্ট ভুলও ফোনের পাশাপাশি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তাকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আরও খবর