India rejects Hague Indus Waters ruling
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে হেগের স্থায়ী সালিশি আদালতের (Permanent Court of Arbitration) সাম্প্রতিক রায় সরাসরি খারিজ করল ভারত। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য, এই তথাকথিত ‘Court of Arbitration’ অবৈধভাবে গঠিত এবং ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বিষয়ে রায় দেওয়ার কোনও এখতিয়ারই এই আদালতের নেই।
সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, এই আদালতকে ভারত কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে আদালতের বর্তমান বা ভবিষ্যতের কোনও রায়ই ভারতের চলমান জলবিদ্যুৎ প্রকল্প কিংবা দেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না বলে জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
১৯৬০ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সিন্ধু জল চুক্তি দুই দেশের মধ্যে সিন্ধু নদী ব্যবস্থার জলবণ্টনের কাঠামো নির্ধারণ করে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পাহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ভারত চুক্তিটি ‘abeyance’ বা স্থগিত অবস্থায় রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক সোমবারও স্পষ্ট করেছে, চুক্তিকে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত এখনও বহাল রয়েছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, তথাকথিত Court of Arbitration-এর কোনও ঘোষণা ভারতের এই অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
অন্যদিকে, হেগের Permanent Court of Arbitration-এর রায়ে বলা হয়েছে, সিন্ধু জল চুক্তি এখনও কার্যকর এবং ভারত একতরফাভাবে সেটি স্থগিত রাখতে পারে না। আদালত জম্মু ও কাশ্মীরের রাটলে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ নিয়েও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়েছে।
আদালতের অবস্থান অনুযায়ী, চুক্তির আওতায় ভারতের প্রকল্পগুলিতে জল সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়টি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকতে হবে। রাটলে প্রকল্পের কিছু নির্মাণকাজ নিয়েও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধতার কথা বলা হয়েছে।
সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ রয়েছে। পাহেলগাঁও হামলার পর ভারতের চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়েছে।
ভারত এখন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা ওই Court of Arbitration-এর কর্তৃত্ব স্বীকার করে না এবং আদালতের কোনও রায়ই ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প বা সার্বভৌম সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে না। ফলে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক ও আইনি সংঘাত আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।