Kerala women killed in US
আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই কেরলবাসী মহিলার মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহতদের নাম অঞ্জনা হরি (৩৫) এবং অ্যান মেরি ম্যাথিউ (৪০)। একই ঘটনায় তাঁদের পরিচিত এক মহিলা, অনিলা (৩২)-কে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। দুই মহিলার মৃত্যুকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ হোমিসাইড হিসেবে তদন্ত করছে। তবে ঘটনার সঠিক উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয়, মৃত্যুর ঠিক আগের দিন তিন মহিলা একসঙ্গে ওনাম উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন এবং পরে সিনেমাও দেখতে গিয়েছিলেন বলে তাঁদের আত্মীয়দের সূত্রে জানা গিয়েছে। তাঁরা ক্যালিফোর্নিয়ার মিলপিটাসের একই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
অঞ্জনা হরি ত্রিশূরের বাসিন্দা ছিলেন। ২০২১ সালে তিনি আমেরিকায় যান এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। তাঁর স্বামী বিজেশ পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তাঁদের ছয় বছরের একটি মেয়েও রয়েছে।
অন্যদিকে, তিরুবনন্তপুরমের কেসাভাদাসপুরমের বাসিন্দা অ্যান মেরি ম্যাথিউ আমেরিকায় একটি স্কুলে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর স্বামী জ্যাকব এবং দুই মেয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আত্মীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট অঞ্জনাকে মিলপিটাসের একটি অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সের পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অন্যদিকে, কাছের সান জোসেতে অ্যান মেরির দেহ তাঁর বাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় অঞ্জনা ও অ্যান মেরির পরিচিত অনিলাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তিনি কেরলের কোট্টায়ামের বাসিন্দা এবং তিনিও একই অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে থাকতেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের সঠিক উদ্দেশ্য এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। কিছু প্রতিবেদনে চাকরি-সংক্রান্ত বিরোধের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তদন্তকারীরা এখনও কোনও নির্দিষ্ট মোটিভ নিশ্চিত করেননি। তাই এই বিষয়টি আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
দুই মহিলার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুরেশ গোপি। তিনি জানিয়েছেন, তাঁদের দেহ কেরলে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতীয় দূতাবাস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
সুরেশ গোপি জানিয়েছেন, তিনি সান ফ্রান্সিসকোয় ভারতীয় কনসাল জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। ময়নাতদন্ত শেষ হওয়ার পর দেহ দুটি স্থানীয়ভাবে নিবন্ধিত ফিউনারেল হোমের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। এরপর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেহ ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে।
মাত্র একদিন আগে একসঙ্গে ওনাম পালন ও সিনেমা দেখার পর দুই বন্ধুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তৃতীয় এক বন্ধুর গ্রেফতার ঘিরে কেরল ও আমেরিকার মালয়ালি সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেন দুই মহিলাকে হত্যা করা হল, তাঁদের মৃত্যুর মধ্যে কীভাবে যোগসূত্র রয়েছে এবং অভিযুক্তের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে কোনও বিরোধ তৈরি হয়েছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে মার্কিন পুলিশ। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়।