• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Trump Netanyahu Lebanon Call

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর তীব্র বাকযুদ্ধ! ‘আমি না থাকলে জেলে থাকতে’, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে ধমক মার্কিন প্রেসিডেন্টের

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মাঝেই চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর কথোপকথনের খবর। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে ফোনে তীব্র ভর্ৎসনা করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর তীব্র বাকযুদ্ধ! ‘আমি না থাকলে জেলে থাকতে’, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে ফোনে ধমক মার্কিন প্রেসিডেন্টের

Trump Netanyahu Lebanon Call

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 2, 2026 10:08 am
  • Update:June 2, 2026 10:08 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ওয়াশিংটন: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের আবহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে এক উত্তপ্ত টেলিফোন কথোপকথনের খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন ট্রাম্প (Trump Netanyahu Lebanon Call)।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং বৈরুত লক্ষ্য করে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। কারণ, এই পদক্ষেপের ফলে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্রের দাবি, ফোনালাপে ট্রাম্প অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে নেতানিয়াহুকে বলেন, “তুমি পাগল হয়ে গেছ”। আরও অভিযোগ, তিনি বলেন যে তাঁর রাজনৈতিক সমর্থন না থাকলে নেতানিয়াহু দুর্নীতি মামলার কারণে জেলে থাকতে পারতেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির প্রকাশিত তথ্যে এই মন্তব্যগুলির (Trump Netanyahu Lebanon Call) উল্লেখ করা হয়েছে।

এই ফোনালাপের অন্যতম কারণ ছিল বৈরুতে সম্ভাব্য বড়সড় ইসরায়েলি হামলা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প সরাসরি হস্তক্ষেপ করে সেই পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে চাপ দেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, লেবাননে নতুন করে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হলে শুধু ইরানের সঙ্গে আলোচনা নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে যায়, তাহলে ইসরায়েলও পাল্টা সামরিক অভিযান চালাবে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি সেনা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ঘটনার পর ট্রাম্প দাবি করেন যে তাঁর উদ্যোগে ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে সংঘর্ষ কমাতে সম্মত হয়েছে। তিনি জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে হিজবুল্লাহর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ইরান প্রশ্নে দুই নেতার মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ট্রাম্প যেখানে কূটনৈতিক সমাধান এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোর দিচ্ছেন, সেখানে নেতানিয়াহু নিরাপত্তার স্বার্থে সামরিক চাপ বজায় রাখতে চাইছেন। এই মতবিরোধ ভবিষ্যতে মার্কিন-ইসরায়েল সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ইরান, ইসরায়েল, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে জটিল কূটনৈতিক সমীকরণের মধ্যে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই উত্তপ্ত কথোপকথন নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে। আগামী দিনে শান্তি আলোচনা কতটা এগোয় এবং ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তার উপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।

আরও খবর