Madhoo Phool Aur Kaante Eve Teasing
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধু সম্প্রতি ভারতীয় সিনেমায় নারীদের উপস্থাপনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অভিনেত্রীর মতে, তাঁর প্রথম ছবি ফুল অওর কাঁটে তে এমন কিছু দৃশ্য ছিল যা ইভ-টিজিং বা নারীদের উত্যক্ত করার (Madhoo Phool Aur Kaante Eve Teasing) ঘটনাকে কার্যত মহিমান্বিত করেছিল।
এক সাক্ষাৎকারে মধু বলেন, আজকের সামাজিক বাস্তবতা এবং আইনগত কাঠামোর নিরিখে দেখলে সেই সময়ের বহু জনপ্রিয় ছবির কিছু বিষয়বস্তু গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, নব্বইয়ের দশকে যে ধরনের আচরণকে প্রেমের প্রকাশ হিসেবে দেখানো হতো, বর্তমান সমাজে তা হয়রানি বা অসঙ্গত আচরণ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
অভিনেত্রী বলেন, সিনেমা মূলত সমাজেরই প্রতিচ্ছবি। যে সময়ে একটি ছবি তৈরি হয়, সেই সময়ের সামাজিক মানসিকতা, মূল্যবোধ এবং দর্শকদের গ্রহণযোগ্যতা ছবির গল্প ও চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলে। ফলে কয়েক দশক আগে যা স্বাভাবিক মনে করা হতো, আজ তা প্রশ্নের মুখে পড়তেই পারে।
মধু আরও উল্লেখ করেন, পুরনো বলিউড ছবিগুলিতে যৌন হিংসা বা নারীদের প্রতি সহিংস আচরণকে অনেক সময় নাটকীয়তার অংশ হিসেবে দেখানো হতো। সেই সময়ে বেশ কিছু অভিনেতা নির্দিষ্ট ধরনের নেতিবাচক চরিত্রে বারবার অভিনয় করতেন এবং দর্শকদের মধ্যেও সেগুলি নিয়ে ভিন্ন ধরনের গ্রহণযোগ্যতা ছিল।
বর্তমানে সিনেমায় নারীদের উপস্থাপনা, সম্মতির গুরুত্ব, স্টকিং, ইভ-টিজিং এবং লিঙ্গ সমতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি হয়েছে। ফলে পুরনো ছবিগুলিকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করার প্রবণতাও বেড়েছে।
মধুর বক্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ তাঁর আত্মসমালোচনার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ মনে করছেন অতীতের ছবিগুলিকে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটেই বিচার করা উচিত।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট— ভারতীয় সিনেমা গত তিন দশকে অনেকটাই বদলেছে। নারীদের চরিত্রায়ণ, গল্প বলার ধরন এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রে আজকের চলচ্চিত্র নির্মাতারা অনেক বেশি সতর্ক। আর সেই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটেই মধুর এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।