Blood Cancer Symptoms
চিকিৎসকদের মতে, এই ক্যানসার অনেক সময় দীর্ঘদিন কোনও স্পষ্ট উপসর্গ তৈরি করে না। ফলে রোগ ধরা পড়তে দেরি হয়। আর সেই কারণেই একে অনেক সময় “সাইলেন্ট ক্যানসার” বলেও উল্লেখ করা হয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নীরব লক্ষণ শরীর আগে থেকেই জানাতে শুরু করে। সেগুলি সময়মতো চিনতে পারলে দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।
উল্লেখ্য: নিচের লক্ষণগুলির কোনওটিই একা ব্লাড ক্যানসারের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। এগুলি অন্য অনেক রোগের কারণেও হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ব্লাড ক্যানসারে শরীরের স্বাভাবিক রক্তকণিকার উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
এর ফলে বারবার জ্বর আসে, সংক্রমণ সহজে হয় এবং অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও দ্রুত সেরে ওঠা যায় না।
আরও একটি সাধারণ লক্ষণ হল অস্বাভাবিক ক্লান্তি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরেও দুর্বলতা কাটে না। রক্তাল্পতা দেখা দিলে শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।
ব্লাড ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্লেটলেট কমে গেলে সামান্য আঘাতেই কালশিটে পড়তে পারে। নাক বা মাড়ি থেকে রক্তপাতও হতে পারে।
এছাড়া ঘাড়, বগল বা কুঁচকির লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়াও একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। অনেক সময় এতে ব্যথা থাকে না। ফলে রোগী বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরে এমন কোনও ফোলা অংশ কয়েক সপ্তাহ ধরে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনেক রোগীর ক্ষেত্রে কোনও কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যায়।
রাতে অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, দীর্ঘদিন জ্বর থাকা এবং হাড় বা জয়েন্টে ব্যথাও ব্লাড ক্যানসারের সম্ভাব্য উপসর্গ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা (CBC), প্রয়োজনে পেরিফেরাল ব্লাড স্মিয়ার, বোন ম্যারো পরীক্ষা এবং অন্যান্য বিশেষ পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয়।
বর্তমানে কেমোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্টের মতো আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। তাই দ্রুত রোগ ধরা পড়লে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উপসর্গকে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।