Awarapan 2 Review
কথায় বলে, আহত বাঘ সবচেয়ে বেশি ভয়ঙ্কর। ‘আওয়ারাপন ২’-এ শিবম পণ্ডিতের প্রত্যাবর্তন যেন সেই কথাটাই মনে করিয়ে দেয়। প্রায় দু’দশক পর আবার অন্ধকার জগতের রণক্ষেত্রে ফিরেছেন ইমরান হাশমি।
২০০৭ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘আওয়ারাপন’। এরপর কেটে গিয়েছে প্রায় ১৯ বছর। তবে প্রথম ছবির স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে টাটকা। তার প্রমাণ মিলল ‘আওয়ারাপন ২’-এর প্রথম দৃশ্যেই।
‘তো ফির আও’ গানের আবহে গোরস্থানে শিবমের প্রবেশ। পর্দায় ইমরান হাশমিকে দেখেই হলজুড়ে শুরু হয় সিটি আর হাততালি। নস্ট্যালজিয়ায় ভেসে যান দর্শক। বিশেষ করে প্রথম ২০ মিনিটে ফিরে আসে শিবম ও আলিয়ার পুরনো প্রেমের গল্প।
তবে ‘আওয়ারাপন ২’ শুধু পুরনো গল্পের পুনরাবৃত্তি নয়। বরং পরিচালক নীতিন কক্কর পুরনো চরিত্রকে নতুন পরিস্থিতিতে দাঁড় করিয়েছেন।
প্রথম ছবির ঘটনার পর শিবমের জীবন অনেকটাই বদলে যায়। প্রেমিকা আলিয়ার মৃত্যুর পর অন্ধকার জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় সে। প্রায় ১৯ বছর ধরে আলিয়ার স্মৃতিকে আঁকড়ে বেঁচে থাকে শিবম।
কিন্তু ভাগ্য তাকে ফের টেনে আনে সেই অন্ধকার জগতে।
আলিয়ার জন্মদিনে গোরস্থানে ফুল দিতে যায় শিবম। সেখানেই আচমকা একটি শিশুকন্যাকে উদ্ধার করে সে। শিশুটিকে একটি অনাথ আশ্রমে নিয়ে যায় শিবম।
আলিয়ার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে শিশুটির নামও রাখে ‘আলিয়া’।
এই শিশুটিই ধীরে ধীরে বদলে দেয় শিবমের জীবন। পরিবারের অর্থ হারানো এক মানুষের কাছে শিশুটিই হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার নতুন কারণ।
কিন্তু সেই শান্ত জীবন বেশিদিন স্থায়ী হয় না।
মানবপাচার, মাদক ব্যবসা এবং গ্যাংস্টারদের সংঘাত ফের শিবমকে বন্দুকের জগতে ফিরিয়ে আনে।
‘আওয়ারাপন ২’-এর দ্বিতীয়ার্ধের বড় অংশের গল্প তৈরি হয়েছে ব্যাংককে। সেখানে মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে একাই লড়াই করতে দেখা যায় শিবমকে।
দুই গ্যাংস্টারের মাদক ব্যবসার সংঘাতকে কেন্দ্র করেই এগোয় গল্প। সেই সংঘাতের আড়ালে একাধিক টুইস্ট রেখেছেন পরিচালক নীতিন কক্কর।
দিশা পাটানি অভিনীত জারার সঙ্গে শিবমের সম্পর্কও গল্পে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। রোম্যান্স খুব বেশি জায়গা নেয়নি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী তা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
অ্যাকশনও এই ছবির অন্যতম বড় আকর্ষণ। মারকাটারি লড়াই, রক্তারক্তি এবং বন্দুকের লড়াই রয়েছে পর্যাপ্ত। ফলে পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমার দর্শকদের হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে ছবির অন্যতম বড় চমক শাবানা আজমি।
সত্তরোর্ধ্ব মাফিয়া কুইনের চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে। বয়সকে পাশে সরিয়ে স্ক্রিন প্রেজেন্স দিয়ে দৃশ্য দখল করেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
‘জোরাবর’ চরিত্রে পুরান গাব্বির অভিনয়ও উল্লেখ করার মতো।
ইমরান হাশমির সিনেমায় গান বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। ‘আওয়ারাপন ২’ও তার ব্যতিক্রম নয়।
জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অমল মালিক, অখিল সচদেব, ওয়াসিফ আহমেদ এবং মিঠুনের সঙ্গীত পরিচালনায় ছবির গানগুলি শ্রুতিমধুর।
তবে ছবির আবহ তৈরি করতে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। রাজু সিংয়ের মিউজিক বেশ কয়েকটি দৃশ্যকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশেষ করে অ্যাকশন এবং আবেগঘন মুহূর্তে ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর গল্পের প্রভাব বাড়িয়েছে।
ইমরান হাশমির অভিনয় এই ছবির মূল শক্তি। শিবমের চরিত্রে তাঁর পুরনো তেজ রয়েছে। একইসঙ্গে বয়স এবং অভিজ্ঞতার ছাপও অভিনয়ে ধরা পড়েছে।
একদিকে হারানো প্রেমের যন্ত্রণা। অন্যদিকে একটি শিশুকে বাঁচানোর দায়। তার সঙ্গে পুরনো অন্ধকার জগতের টানাপোড়েন।
এই তিনটি স্তর মিলিয়েই শিবমের চরিত্রকে তৈরি করেছেন পরিচালক। তবে ছবিতে কিছু জায়গায় গল্পের গতি কমে যায়। কিছু টুইস্টও খুব একটা চমক দিতে পারে না। ফলে একেবারে নিখুঁত থ্রিলার বলা যাবে না। তবু বাণিজ্যিক সিনেমার সমস্ত উপকরণ রয়েছে ছবিতে।
নস্ট্যালজিয়া আছে। অ্যাকশন আছে। রোম্যান্স আছে। গান আছে। মাফিয়া দুনিয়া আছে। তার সঙ্গে রয়েছে ইমরান হাশমির স্টার পাওয়ার। সব মিলিয়ে ‘আওয়ারাপন ২’ পুরনো দর্শকদের নস্ট্যালজিয়ায় ফেরায়। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্যও তৈরি করে গ্যাংস্টার অ্যাকশনের আবহ।
যাঁরা পুরোপুরি বাণিজ্যিক সিনেমা পছন্দ করেন, তাঁদের কাছে ছবিটি পয়সা উসুল মনে হতে পারে।