Sunny Deol
বলিউডে দেশাত্মবোধক সিনেমার সঙ্গে সানি দেওলের নাম দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে রয়েছে। ‘বর্ডার’ থেকে ‘গদর’ ফ্র্যাঞ্চাইজি, তাঁর অভিনয়ে বারবার উঠে এসেছে দেশপ্রেমের গল্প। এবার সেই তালিকায় যোগ হতে চলেছে নতুন ছবি ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’। সিনেমা মুক্তির আগে প্রচারে কলকাতায় এসে একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন অভিনেতা।
বুধবার কলকাতায় পা রাখেন সানি দেওল। শহরে আসার মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন ছবির প্রচার। তবে শুধু সিনেমার প্রচারেই নিজেকে আটকে রাখেননি অভিনেতা। কলকাতার ইতিহাস এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতির সঙ্গেও নিজেকে জড়িয়ে নিলেন তিনি।
সানি দেওল সোজা চলে যান ভবানীপুরের নেতাজি ভবনে। সেখানে ঘুরে দেখেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ঐতিহাসিক বাড়ি। নেতাজির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা স্মারকও দেখেন অভিনেতা। বাড়ির বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখার পাশাপাশি বেশ কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করেন তিনি।
নেতাজি ভবন পরিদর্শনের সময় সানি দেওলের সঙ্গে ছিলেন অধ্যাপক সুগত বসু। তিনি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নাতি। তাঁর কাছ থেকেই বাড়ির বিভিন্ন অংশ এবং নেতাজির স্মৃতিবিজড়িত সামগ্রী সম্পর্কে জানতে পারেন বলিউড অভিনেতা।
নেতাজির ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসও ঘুরে দেখেন সানি। বিশেষ আকর্ষণ ছিল নেতাজির ব্যবহৃত গাড়ি। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ছবি এবং স্মারকের দিকেও নজর দেন অভিনেতা।
এই সফরের বেশ কিছু ছবি নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন সানি দেওল। ফলে তাঁর কলকাতা সফর ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
শুধু নেতাজি ভবন নয়। কলকাতার অন্যতম ঐতিহাসিক স্থাপত্য ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালও ঘুরে দেখেন সানি। শহরের ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সির সামনেও ছবি তুলতে দেখা যায় তাঁকে।
ফলে সানি দেওলের কলকাতা সফর শুধুমাত্র একটি ছবির প্রচার কর্মসূচি হয়ে থাকেনি। বরং শহরের ইতিহাস এবং সংস্কৃতির সঙ্গে অভিনেতার একটি আলাদা সংযোগও তৈরি হয়েছে।
স্বাধীনতা দিবসের ঠিক আগে মুক্তি পাচ্ছে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’। রাজকুমার সন্তোষী পরিচালিত এই পিরিয়ড ড্রামা ১৪ অগাস্ট প্রেক্ষাগৃহে আসার কথা। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন আমির খান ও অপরনা পুরোহিত। ছবির কাহিনির পটভূমিতে রয়েছে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ।
ছবিতে সানি দেওলের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন প্রীতি জিন্টা, শাবানা আজমি, করণ দেওল, আলি ফজল এবং অভিমন্যু সিং। ফলে ছবির তারকা তালিকাও যথেষ্ট বড়।
‘গদর ২’-এর সাফল্যের পর সানি দেওলকে আবার দেশাত্মবোধক আবহের ছবিতে দেখতে আগ্রহী দর্শকরা। ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গদর ২’ বক্স অফিসে বড় সাফল্য পেয়েছিল। সেই সাফল্যের পর দেশভাগের মতো ঐতিহাসিক ঘটনা নিয়ে নতুন ছবিতে সানির উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
তবে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ শুধু যুদ্ধ বা দেশপ্রেমের গল্প নয়। ছবির কেন্দ্রে রয়েছে দেশভাগের সময়কার মানুষের জীবন, সম্পর্ক এবং যন্ত্রণার মতো বিষয়। ফলে ছবিটি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে কীভাবে পর্দায় তুলে ধরে, সেদিকেও নজর থাকবে।
রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে সানি দেওলের পুনর্মিলনও এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ। তাঁদের আগের কাজের স্মৃতি এখনও দর্শকদের মনে রয়েছে। এবার সেই জুটি নতুন প্রেক্ষাপটে কতটা সাড়া ফেলতে পারে, সেটাই দেখার।
‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-এর মুক্তির দিনই বক্স অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হচ্ছে। একই দিনে ইমরান হাশমি অভিনীত ‘আওয়ারাপন ২’ মুক্তির কথা রয়েছে। ফলে ১৪ অগাস্ট থেকেই দুই ছবির মধ্যে দর্শক টানার লড়াই শুরু হতে পারে।
একদিকে রয়েছে সানি দেওলের দেশভাগের পটভূমিতে তৈরি পিরিয়ড ড্রামা। অন্যদিকে রয়েছে ইমরান হাশমির জনপ্রিয় ‘আওয়ারাপন’ ফ্র্যাঞ্চাইজির দ্বিতীয় ছবি। দুই ছবির দর্শক আলাদা হলেও বক্স অফিসে এর প্রভাব পড়তে পারে।
এরই মধ্যে সানি দেওল দেশের বিভিন্ন বড় শহরে ছবির প্রচারে ব্যস্ত। কলকাতায় এসে নেতাজি ভবন এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শন তাঁর প্রচারে অন্য মাত্রা যোগ করেছে।
বিশেষ করে স্বাধীনতা দিবসের আগে নেতাজির বাড়িতে তাঁর উপস্থিতি ছবির দেশাত্মবোধক আবহের সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই কলকাতা সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ।
এখন অপেক্ষা ১৪ অগাস্টের। দর্শক ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’-কে কতটা গ্রহণ করেন, সেটাই শেষ কথা বলবে। পাশাপাশি সানি দেওলের নতুন দেশাত্মবোধক ছবি বক্স অফিসে ‘গদর ২’-এর সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন।