• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Byju Jail Singapore Court

ভারতের ২২ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন থেকে জেলের সাজা! BYJU’S প্রতিষ্ঠাতা রাভীন্দ্রনের পতনের গল্প

ভারতের সবচেয়ে সফল স্টার্টআপগুলির একটি হিসেবে পরিচিত BYJU'S-এর প্রতিষ্ঠাতা Byju Raveendran-কে সিঙ্গাপুর আদালত ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। একসময়ের ২২ বিলিয়ন ডলারের EdTech সাম্রাজ্যের উত্থান থেকে পতনের কাহিনি আবারও আলোচনায়।

ভারতের ২২ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন থেকে জেলের সাজা! BYJU’S প্রতিষ্ঠাতা রাভীন্দ্রনের পতনের গল্প

Byju Jail Singapore Court

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 27, 2026 9:56 am
  • Update:May 27, 2026 9:56 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: এক সময় ভারতের স্টার্টআপ বিপ্লবের প্রতীক ছিল BYJU’S। অনলাইন শিক্ষার জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে কয়েক বছরের মধ্যেই কোম্পানিটি বিশ্বের অন্যতম বড় EdTech সংস্থায় পরিণত হয়েছিল। কিন্তু সেই সাফল্যের গল্প এখন বড় আইনি ও আর্থিক সংকটে (Byju Jail Singapore Court) পরিণত হয়েছে।

সর্বশেষ ঘটনায়, সিঙ্গাপুরের একটি আদালত BYJU’S-এর প্রতিষ্ঠাতা Byju Raveendran-কে আদালত অবমাননার মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের অভিযোগ, তিনি বহুবার আদালতের নির্দেশ পালন করেননি এবং সম্পদ সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশের পাশাপাশি প্রায় ৯০ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার আইনি খরচও দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই মামলাটি মূলত একটি সম্পদ-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত। রিপোর্ট অনুযায়ী, Beeaar Investco Pte নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট নথি আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। আদালত মনে করেছে যে নির্দেশগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি।

BYJU’S-এর উত্থান ছিল অসাধারণ দ্রুত। ২০১১ সালে শুরু হওয়া এই সংস্থা করোনা মহামারির সময় দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করে। অনলাইন শিক্ষার চাহিদা বাড়ায় কয়েক কোটি শিক্ষার্থী প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হয়। কোম্পানির বাজার মূল্য এক সময় ২২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যায়, যা এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান EdTech স্টার্টআপে পরিণত করেছিল।

সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল তারকা Lionel Messi এবং ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসর হিসেবেও ব্যাপক প্রচার পায় কোম্পানিটি। কিন্তু পরবর্তীতে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে।

ক্রমশ সামনে আসে আর্থিক অনিয়ম, বিলম্বিত অডিট রিপোর্ট, ঋণ সংক্রান্ত সমস্যা, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বিরোধ এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো নানা সমস্যা। কয়েক হাজার কর্মী চাকরি হারান। পাশাপাশি মার্কিন ঋণদাতাদের সঙ্গে বহু কোটি ডলারের বিরোধও তৈরি হয়।

২০২৪ সালে কোম্পানির বিরুদ্ধে দেউলিয়া সংক্রান্ত প্রক্রিয়াও শুরু হয়। বিভিন্ন আদালতে একের পর এক মামলা সংস্থাটির পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

তবে Byju Raveendran নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই মামলাটি প্রতারণা বা অসততার সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তিনি এখনও বিষয়টির সমাধানে কাজ করছেন।

ভারতের স্টার্টআপ ইতিহাসে BYJU’S-এর গল্প এখন অনেকের কাছেই বড় শিক্ষা হয়ে উঠছে। দ্রুত বৃদ্ধি, বিপুল বিনিয়োগ এবং আগ্রাসী সম্প্রসারণের পাশাপাশি শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থাপনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ— তা আবারও সামনে এল।

আরও খবর