IMAX Revolution
হলিউডের বড় ছবির সঙ্গে পাল্লা দিতে চাইছে ভারতীয় সিনেমা। এবার সেই দৌড়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। আর সেই পথের অন্যতম হাতিয়ার IMAX।
ক্রিস্টোফার নোলানের The Odyssey ভারতে IMAX অভিজ্ঞতা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। দর্শকদের একাংশ বড় পর্দায় ছবিটি দেখার জন্য বাড়তি দাম দিতেও রাজি হয়েছেন। তবে এই সাফল্য একই সঙ্গে একটি সমস্যাও সামনে এনেছে।
ভারতে IMAX স্ক্রিনের সংখ্যা এখনও খুব কম। দেশে বর্তমানে প্রায় ৩৪টি IMAX স্ক্রিন রয়েছে। ফলে premium format-এ বড় ছবি দেখার সুযোগ এখনও সীমিত।
ভারতীয় সিনেমার এই ছবিটা বদলাতে পারে Ramayana এবং এস এস রাজামৌলির Varanasi। Ramayana তৈরি হচ্ছে IMAX-এর জন্য। অন্যদিকে রাজামৌলির Varanasi আরও বড় প্রযুক্তিগত পরীক্ষার সামনে দাঁড়িয়েছে। ছবিতে অভিনয় করছেন মহেশ বাবু এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। Varanasi IMAX-certified digital camera ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে। ফলে ছবিটি ভারতীয় সিনেমার premium presentation-এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হতে পারে।
এর আগে ভারতীয় ছবির ক্ষেত্রে IMAX মূলত বড় পর্দায় প্রদর্শনের একটি premium option ছিল। কিন্তু নতুন ছবিগুলি সেই ধারণা বদলাতে পারে। অর্থাৎ ছবি তৈরির সময় থেকেই IMAX-এর কথা মাথায় রাখা হচ্ছে। ফলে ক্যামেরা, ফ্রেমিং, আলো এবং শব্দ নিয়ে নির্মাতাদের পরিকল্পনাও বদলাচ্ছে।
এখানেই রয়েছে বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা।
সমস্যার জায়গাটিও কম নয়। একটি IMAX স্ক্রিন তৈরি করতে প্রায় ১০ থেকে ১১ কোটি টাকা খরচ হতে পারে। এমনটাই জানিয়েছেন PVR INOX-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সঞ্জীব কুমার বিজলি। ফলে দেশের প্রতিটি শহরে দ্রুত IMAX স্ক্রিন তৈরি করা সহজ নয়। শুধু পরিকাঠামো তৈরি করলেই অবশ্য সমস্যার সমাধান হবে না। সেই স্ক্রিনে নিয়মিত premium content দরকার।
বিজলির বক্তব্যেও উঠে এসেছে সেই বিষয়টি। তাঁর মতে, আরও বেশি হিন্দি এবং আঞ্চলিক ছবি IMAX-এর জন্য তৈরি হওয়া দরকার। বিশেষ করে তামিল ও তেলুগু সিনেমা থেকে আরও বড় বাজেটের ছবি এলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
এখানে তৈরি হচ্ছে একটি চক্র। নির্মাতারা চাইছেন বেশি IMAX স্ক্রিন। কারণ দর্শক না থাকলে অতিরিক্ত খরচ উঠে আসবে না। অন্যদিকে প্রদর্শকরাও চাইছেন বেশি IMAX-ready ছবি। কারণ কনটেন্ট না থাকলে কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্ক্রিন তৈরি করার যুক্তি দুর্বল হয়ে যায়।
DNEG-এর গ্লোবাল সিইও এবং Ramayana-র প্রযোজক নমিত মালহোত্রাও এই সমস্যাকে অনেকটা ‘chicken-and-egg’ পরিস্থিতি হিসেবে দেখেছেন।
IMAX-এর জন্য ছবি তৈরি করা মানে শুধু একটি বড় স্ক্রিনে ছবি দেখানো নয়। ক্যামেরা থেকেই শুরু হয় পরিবর্তন। IMAX ক্যামেরা সাধারণ ক্যামেরার তুলনায় অনেক ভারী হতে পারে। ফলে বিশেষ rig এবং প্রশিক্ষিত crew প্রয়োজন হয়। কিছু IMAX camera আবার অত্যন্ত শব্দ করে। তাই sync sound নেওয়ার সময় অতিরিক্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে। তারপর আসে framing-এর প্রশ্ন।
IMAX স্ক্রিনে ছবির উচ্চতা ও বিস্তার অনেক বেশি অনুভূত হয়। তাই পরিচালক এবং cinematographer-কে ফ্রেমের প্রতিটি অংশ নিয়ে আরও সতর্ক হতে হয়। Focus-ও গুরুত্বপূর্ণ। বড় পর্দায় সামান্য ভুল focus সহজেই চোখে পড়তে পারে।
Lighting-এর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। সাধারণ স্ক্রিনে যে ছোটখাটো ত্রুটি ধরা পড়ে না, বিশাল IMAX canvas-এ সেটিই স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। আর যদি IMAX film ব্যবহার করা হয়, খরচ আরও বাড়ে। Film stock ব্যয়বহুল। প্রতিটি roll-এ শুটিংয়ের সময়ও সীমিত। ফলে প্রতিটি take-এর গুরুত্ব বেড়ে যায়।
পরিচালক শেখর কাপুরের মতে, এই মুহূর্তে সাধারণ বাজেটের ভারতীয় ছবির জন্য IMAX যথেষ্ট ব্যয়বহুল। তবে প্রযুক্তি ভবিষ্যতে সেই সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলেও তাঁর মত। AI এবং নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে একই ছবিকে বিভিন্ন format-এর জন্য আরও সহজে তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। সেই ভবিষ্যৎ এখনও পুরোপুরি বাস্তব হয়নি। তবে Ramayana এবং Varanasi সেই ভবিষ্যতের দিকে ভারতীয় সিনেমাকে এগিয়ে দিচ্ছে।
রাজামৌলি আগেই দেখিয়েছেন যে ভারতীয় গল্প বিশ্বমঞ্চে বড় পরিসরে পৌঁছতে পারে।
এবার Varanasi দেখাতে পারে ভারতীয় সিনেমা premium technology-তেও কতটা বড় বাজি ধরতে পারে। শেষ পর্যন্ত IMAX-এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে দু’টি পক্ষের উপর। একদিকে নির্মাতাদের বড় ঝুঁকি নেওয়া। অন্যদিকে প্রদর্শকদের আরও বেশি premium screen তৈরি করা। The Odyssey দর্শকদের চাহিদা দেখিয়েছে। Ramayana এবং Varanasi সেই চাহিদাকে ভারতীয় সিনেমার নিজস্ব কনটেন্ট দিয়ে কতটা দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
ভারতে IMAX কি শুধুই হলিউডের জন্য premium format থাকবে? নাকি ভারতীয় সিনেমাই এবার সেই পর্দার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠবে?
উত্তর মিলবে আগামী কয়েক বছরে।