Iran Cyberattack
যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো এবার সাইবার হামলার মুখে। গত কয়েক দিনে মিনেসোটাসহ অন্তত সাতটি অঙ্গরাজ্যের জল ও বর্জ্যজল পরিশোধন ব্যবস্থায় একের পর এক সাইবার হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। এখনও পর্যন্ত কোনও দেশের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশের সন্দেহ, এই হামলার নেপথ্যে থাকতে পারে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকার গোষ্ঠী।
মিনেসোটার ৩০টিরও বেশি জল সরবরাহ ব্যবস্থায় একই সময়ে সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়েছে। কোথাও আবার অপারেটিং সফটওয়্যারের পাসওয়ার্ড বদলে দেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে জল পরিষেবা ব্যাহত হয়। যদিও পানীয় জলের গুণগত মানের কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। তদন্তে নেমেছে এফবিআই, সিসা (CISA) এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (EPA)।
মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গত কয়েক মাস ধরেই সতর্ক করে আসছিল যে, ইন্টারনেটে যুক্ত শিল্প নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বা PLC-কে লক্ষ্য করছে ইরান-ঘনিষ্ঠ হ্যাকাররা। সাম্প্রতিক হামলার ধরন, ব্যবহৃত কৌশল এবং লক্ষ্যবস্তু আগের কিছু ইরান-সংশ্লিষ্ট অভিযানের সঙ্গে মিল রয়েছে বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানকে দায়ী করেনি। তদন্ত চলছে।
ঘটনাটি নতুন রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, তিনি মনে করেন না ইরান এই হামলার জন্য দায়ী। অন্যদিকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা, মিনেসোটা প্রশাসন এবং একাধিক সাইবার বিশেষজ্ঞের বক্তব্য, হামলার ধরণ ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে যায়। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জল সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা এখন সাইবার যুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য। পুরনো প্রযুক্তি, দুর্বল পাসওয়ার্ড এবং ইন্টারনেটে সরাসরি সংযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হামলাকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে। তাই মার্কিন সরকার জরুরি ভিত্তিতে জল পরিকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে।
এই ঘটনার ফলে স্পষ্ট হয়েছে, ভবিষ্যতের সংঘাত শুধু সীমান্তে নয়, ডিজিটাল পরিকাঠামোতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। আর সেই কারণেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন সাইবার নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে।