Firework Song
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন-ইরান সংঘাত নিয়ে হোয়াইট হাউসের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিল। আন্তর্জাতিক পপ তারকা ক্যাটি পেরি অভিযোগ করেছেন, তাঁর জনপ্রিয় গান ‘Firework’ ব্যবহার করা হয়েছে তাঁর অনুমতি ছাড়াই। এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এমন ব্যবহারের জন্য তিনি কখনও সম্মতি দেননি।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। শিল্পীর কপিরাইট, রাজনৈতিক প্রচার এবং সরকারি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মার্কিন-ইরান সংঘাত নিয়ে প্রকাশিত একটি ভিডিও পোস্টে ক্যাটি পেরির বিখ্যাত গান ‘Firework’ ব্যবহার করা হয়। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ক্যাটি পেরি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই ব্যবহারের জন্য তাঁর অনুমতি নেওয়া হয়নি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, “I didn’t approve this.” অর্থাৎ, তিনি এই ব্যবহারে সম্মতি দেননি। এরপর থেকেই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে শিরোনামে উঠে আসে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও শিল্পীর সৃষ্টিকে রাজনৈতিক বার্তার সঙ্গে ব্যবহার করার আগে যথাযথ লাইসেন্স বা অনুমতি নেওয়া জরুরি। না হলে কপিরাইট এবং শিল্পীর ব্যক্তিগত অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, রাজনৈতিক প্রচারে জনপ্রিয় গান ব্যবহারের বিতর্ক নতুন নয়। অতীতেও বহু শিল্পী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তাঁদের গান অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গানের লাইসেন্স থাকলেও রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে। শিল্পী যদি মনে করেন তাঁর গান এমন কোনও বার্তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যা তাঁর মতাদর্শের সঙ্গে মেলে না, তাহলে তিনি আপত্তি জানাতেই পারেন।
এই ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ ক্যাটি পেরির অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। অন্যদিকে অনেকে বলেছেন, সরকারি পোস্টে গান ব্যবহারের আইনি দিকটি আগে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত নতুন নয়। হলিউড ও সংগীত জগতের একাধিক শিল্পী অতীতেও ট্রাম্প বা তাঁর প্রচার শিবিরের বিরুদ্ধে গান ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন।
ক্যাটি পেরির এই মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন-ইরান উত্তেজনার মতো সংবেদনশীল আন্তর্জাতিক ইস্যুর সঙ্গে একটি জনপ্রিয় গান যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে।
এখন নজর থাকবে, এই ঘটনায় হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয় কি না। একই সঙ্গে কপিরাইট আইন এবং রাজনৈতিক প্রচারে সংগীত ব্যবহারের নিয়ম নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হতে পারে।