Iran nuclear inspectors return
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন সমঝোতা চুক্তির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরমাণু পরিদর্শকরা আবারও ইরানে ফিরবেন (Iran nuclear inspectors return) বলে দাবি করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর মতে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির উপর নজরদারি নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া সমঝোতার অন্যতম প্রধান শর্ত হল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র পরিদর্শকদের ইরানে ফিরে গিয়ে পরমাণু কর্মসূচি পর্যবেক্ষণের অনুমতি দেওয়া। একই সঙ্গে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানোর বিষয়েও চুক্তিতে উল্লেখ রয়েছে।
গত কয়েক বছরে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ক্রমশ বেড়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়ামের সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং IAEA-র সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত হওয়ায় পশ্চিমি দেশগুলির সঙ্গে তেহরানের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। এই পরিস্থিতিতে পরিদর্শকদের প্রত্যাবর্তনকে কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবেই দেখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
প্রাথমিক সমঝোতা অনুযায়ী, ইরানকে তার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আরও স্বচ্ছতা দেখাতে হবে এবং আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে হবে। পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে, ইরানের প্রতিটি পদক্ষেপ যাচাইয়ের ভিত্তিতেই কোনও সুবিধা কার্যকর হবে।
ভ্যান্স আরও জানিয়েছেন, এই সমঝোতার লক্ষ্য শুধু বর্তমান সংকট মোকাবিলা নয়, দীর্ঘমেয়াদে ইরানকে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে দূরে রাখা। ওয়াশিংটনের মতে, একটি কার্যকর যাচাই ব্যবস্থা ছাড়া কোনও চুক্তিই সফল হতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিদর্শকদের প্রত্যাবর্তন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান, ইজরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এই চুক্তি তা প্রশমিত করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে এখনও বহু বিষয় চূড়ান্ত হয়নি। চুক্তির বিভিন্ন কারিগরি দিক নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে এবং উভয় পক্ষের ব্যাখ্যাতেও কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর চুক্তিতে পরিণত হবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে সতর্ক আশাবাদ বজায় রয়েছে।