US Iran War
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধ নিয়ে এবার আরও ভয়ঙ্কর বার্তা এল তেহরান থেকে। এই যুদ্ধ ২০২৯ সাল পর্যন্ত চলতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন এক শীর্ষ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি হলেন Mohammad Reza Naqdi। তিনি Islamic Revolutionary Guard Corps বা IRGC-এর একজন জেনারেল। পাশাপাশি তিনি ইরানের Supreme Leader Mojtaba Khamenei-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী।
Naqdi-র বক্তব্য অনুযায়ী, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারে ইরান। এর লক্ষ্য শুধু সামরিক জয় নয়। বরং ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা ঠেকানোর মতো deterrence তৈরি করাই লক্ষ্য। তাঁর মতে, দীর্ঘ যুদ্ধ ইরানকে আরও সামরিক অভিজ্ঞতা দিচ্ছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৯ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবেই এমন কোনও সরকারি ঘোষণা তেহরান দেয়নি। এটি Naqdi-র বক্তব্য এবং সম্ভাব্য কৌশল সম্পর্কে তাঁর মূল্যায়ন। তাই এটিকে যুদ্ধের নিশ্চিত ভবিষ্যৎ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।
Donald Trump-এর বর্তমান প্রেসিডেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৯ সালের ২০ জানুয়ারি। এই সময়সীমার কথাই উঠে এসেছে Naqdi-র বক্তব্যে। এক সাক্ষাৎকারে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, ইরান কি Trump-এর মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়?
জবাবে Naqdi deterrence-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যের অর্থ, ইরান এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যাতে ভবিষ্যতে কেউ হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে খরচের কথা ভাবে।
সেই কারণে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতকে একটি কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
Naqdi আরও দাবি করেছেন, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, ইরান তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। বিশেষ করে আমেরিকার বিরুদ্ধে বাস্তব যুদ্ধে লড়াই করার অভিজ্ঞতা আগে তাদের ছিল না। গত কয়েক মাসের সংঘাত সেই অভিজ্ঞতা তৈরি করেছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
তাঁর এই মন্তব্য Washington-এর জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। কারণ দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ মানে আরও বেশি সামরিক ব্যয়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও আরও অস্থির হতে পারে। তেলের বাজার, জাহাজ চলাচল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বর্তমানে US-Iran সম্পর্কেও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আগের অন্তর্বর্তী চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা আটকে রয়েছে। Reuters-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত না মানার অভিযোগ তুলছে।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করা হয়।আমেরিকা কি যুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে?
Naqdi এর জবাবে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আমেরিকা যদি এমন অস্ত্র ব্যবহার করে, তাহলে সেটি তাদের জন্য বড় ভুল হতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিও ঝুঁকির মুখে পড়বে।
তবে Naqdi একই সঙ্গে বলেছেন, পরমাণু অস্ত্র তৈরি বা ব্যবহারের প্রয়োজন ইরানের নেই।
তিনি দাবি করেছেন, ইরানের শক্তির ভিত্তি তাদের জনগণের সমর্থন এবং প্রতিরোধের মানসিকতা। অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্রকে তিনি ইরানের প্রধান কৌশল হিসেবে তুলে ধরেননি।
‘Death to America’ স্লোগান নিয়েও প্রশ্ন করা হয়েছিল তাঁকে। Naqdi দাবি করেন, এই স্লোগানের অর্থ আমেরিকার সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে শত্রুতা নয়। বরং মার্কিন নেতৃত্বের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ বোঝানো হয় বলে তিনি ব্যাখ্যা করেন।
তবে এই বক্তব্যের মধ্যেও Washington-এর বিরুদ্ধে তেহরানের কঠোর অবস্থান স্পষ্ট।
দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট এখনও গভীর। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ সহজ হচ্ছে না।
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ থামানোর জন্য জুন মাসে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছিল।
চুক্তিতে সামরিক অভিযান বন্ধ করার পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনোর কথা ছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা বেশিদিন টেকেনি।
Trump জুলাই মাসে চুক্তিটিকে শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করেন। এরপর তেহরানও সমঝোতার কার্যকারিতা স্থগিত করে। ইরানের অভিযোগ, Washington চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভেঙেছে। অন্যদিকে আমেরিকার অভিযোগ, Tehran চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করেনি।
সবচেয়ে বড় বিতর্কের জায়গা Strait of Hormuz। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহণ পথ এই জলপথ। এর নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে Washington ও Tehran-এর মধ্যে তীব্র বিরোধ চলছে।
Reuters জানিয়েছে, চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে সাম্প্রতিক আলোচনায় কোনও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান চাইছে Washington আগে নিজের প্রতিশ্রুতি পালন করুক। অন্যদিকে আমেরিকা Hormuz পুনরায় খোলার মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে Naqdi-র ২০২৯ পর্যন্ত যুদ্ধের সম্ভাবনার মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদি সত্যিই সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে তার প্রভাব শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশও এর প্রভাব অনুভব করতে পারে।
বিশ্ববাজারেও নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
তবে আপাতত ২০২৯ পর্যন্ত যুদ্ধ চলবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। Naqdi-র বক্তব্যকে ইরানের সামরিক কৌশল এবং রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার দরজাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। তাই আগামী কয়েক মাসে Washington এবং Tehran-এর সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত কোন পথে এগোয়।