• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
British Warship Argentina Territorial Waters

বিশ্বকাপের উত্তাপের মাঝেই নতুন কূটনৈতিক সংঘাত! আর্জেন্টিনার জলসীমায় ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ, তীব্র প্রতিবাদ বুয়েনস আইরেসের

আর্জেন্টিনার অভিযোগ, ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ HMS Medway অনুমতি ছাড়াই তাদের দাবি করা জলসীমায় প্রবেশ করেছে। যুক্তরাজ্যের দাবি, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই "innocent passage" করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের উত্তাপের মাঝেই নতুন কূটনৈতিক সংঘাত! আর্জেন্টিনার জলসীমায় ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজ, তীব্র প্রতিবাদ বুয়েনস আইরেসের

British Warship Argentina Territorial Waters

Published by: cloud_admin
  • Posted:July 17, 2026 5:19 pm
  • Update:July 17, 2026 5:19 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ডস (আর্জেন্টিনার ভাষায় মালভিনাস) যুদ্ধের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। তারই মধ্যে আবারও যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আর্জেন্টিনা অভিযোগ করেছে, ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির যুদ্ধজাহাজ HMS Medway তাদের জলসীমায় অনুমতি ছাড়াই প্রবেশ করেছে। এই ঘটনায় ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্র জমা দিয়েছে বুয়েনস আইরেস। তবে যুক্তরাজ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই জাহাজটি “innocent passage” বা বৈধ নিরীহ যাত্রা (British Warship Argentina Territorial Waters) করেছে।

কী অভিযোগ আর্জেন্টিনার?

আর্জেন্টিনার বিদেশ মন্ত্রকের দাবি, রয়্যাল নেভির অফশোর প্যাট্রোল ভেসেল HMS Medway চলতি মাসের শুরুতে আর্জেন্টিনার দাবি করা জলসীমা অতিক্রম করেছে। বুয়েনস আইরেসের অভিযোগ, এই যাত্রা ছিল “অননুমোদিত এবং বেআইনি”।

আর্জেন্টিনার বিদেশমন্ত্রী পাবলো কির্নো বলেন, এই পদক্ষেপ জাতিসংঘের প্রস্তাব এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সমঝোতার পরিপন্থী। তাই ব্রিটিশ দূতাবাসের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

ব্রিটেনের পাল্টা জবাব

লন্ডন অবশ্য অভিযোগ সম্পূর্ণ খারিজ করেছে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, HMS Medway চিলির পুন্তা অ্যারেনাসে ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের জন্য রসদ পৌঁছে দেওয়ার নিয়মিত অভিযানে ছিল। নিরাপত্তা ও আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে সবচেয়ে উপযুক্ত রুট ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বক্তব্য, এই যাত্রা জাতিসংঘের সমুদ্র আইন (UNCLOS)-এর Article 17 অনুযায়ী বৈধ “innocent passage” এবং আন্তর্জাতিক আইনের সম্পূর্ণ সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্বকাপের আবহে বেড়েছে উত্তেজনা

ঘটনার সময়টিও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আর্জেন্টিনা ফুটবল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই কূটনৈতিক বিতর্ক সামনে আসে।

সেমিফাইনাল জয়ের পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলার “Las Malvinas son Argentinas” (মালভিনাস আর্জেন্টিনার) লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন। এরপরই ফকল্যান্ডস ইস্যুতে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে।

ফকল্যান্ডস বিরোধের দীর্ঘ ইতিহাস

দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ বহু দশকের পুরনো।

১৯৮২ সালে দ্বীপগুলির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ হয়। প্রায় আড়াই মাসের সেই সংঘর্ষে ব্রিটেন বিজয়ী হয় এবং এরপর থেকেই দ্বীপপুঞ্জের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ লন্ডনের হাতে রয়েছে। তবে আর্জেন্টিনা এখনও এই দ্বীপগুলিকে নিজেদের সার্বভৌম ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং “ইসলাস মালভিনাস” নামে উল্লেখ করে।

নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধজাহাজের যাত্রাপথ নিয়ে এই বিরোধ শুধু একটি সামুদ্রিক ইস্যু নয়। এটি ফকল্যান্ডস প্রশ্নে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব বিরোধকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

যদিও যুক্তরাজ্য বলছে, তাদের নৌবাহিনীর অভিযান ছিল সম্পূর্ণ বৈধ ও নিয়মমাফিক, আর্জেন্টিনা এই ঘটনাকে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। ফলে আগামী দিনে বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে পারে।

আরও খবর