Trump Plane Switch
তুরস্ক থেকে ফেরার সময় আচমকাই বিমান বদলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তাঁকে বড় Air Force One থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ছোট একটি সামরিক বিমানে। এই পুরো প্রক্রিয়া ছিল অত্যন্ত গোপন। এমনকী Trump-এর সঙ্গে থাকা সাংবাদিকরাও বিষয়টি জানতে পারেননি।
এখন সেই বিমান বদলের নেপথ্যে থাকা গোয়েন্দা তথ্য নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।
একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েল আমেরিকাকে সতর্ক করেছিল। তাদের দাবি ছিল, ইরান Trump-এর বিমানকে লক্ষ্য করতে পারে।
তবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন কর্মকর্তা সেই তথ্য নিয়ে সন্দিহান ছিলেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ওই হুমকির কোনও স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ সামনে আসেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যটি ছিল একক সূত্রের।
তাছাড়া সেটি ইজরায়েল থেকে পাওয়া। মার্কিন গোয়েন্দাদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয়নি।
ঘটনাটি ঘটে গত ৮ জুলাই। সেদিন তুরস্কের রাজধানী Ankara-য় NATO summit শেষ করে ফিরছিলেন Trump। এর আগে তিনি নতুন একটি বিমান নিয়ে সেখানে পৌঁছেছিলেন। বিমানটি Qatar সরকার Trump-কে উপহার দিয়েছিল। কিন্তু ফেরার আগে পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসে। Trump-কে প্রকাশ্যে পুরনো Air Force One-এ ওঠার কথা বলা হয়। সাংবাদিক এবং প্রশাসনের একাংশও সেই বিমানেই ছিলেন। কিন্তু বাস্তবে Trump অন্য একটি ছোট C-32A বিমানে ওঠেন।
আরও চমকপ্রদ বিষয় ছিল Trump-কে বিমানে তোলার পদ্ধতি। তাঁকে একটি catering truck-এর মাধ্যমে গোপনে অন্য বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সেই ছোট বিমানটি আলাদা পথে ব্রিটেনের দিকে রওনা দেয়। অন্যদিকে বড় Air Force One আলাদা করে উড়ে যায়।
কেন এমন করা হল, তখন তা প্রকাশ করা হয়নি। Trump-ও পরে জানিয়েছিলেন, তিনি Secret Service-এর নির্দেশ মেনেই বিমান বদল করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্ব যাদের, তাঁদের সিদ্ধান্তই তিনি অনুসরণ করেন।
এরপর সামনে আসে ইরান সংক্রান্ত সম্ভাব্য হুমকির তথ্য।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলি সরকার CIA-কে সতর্ক করেছিল। তাদের কাছে এমন তথ্য ছিল যে ইরান Trump-এর বিমানকে লক্ষ্য করতে পারে। সম্ভাব্য হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একটি অংশ এই তথ্যকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাননি।
CIA-র বিশ্লেষকদের কাছে তথ্যটি যথেষ্ট শক্তিশালী মনে হয়নি বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তাঁরা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজেদের সন্দেহের কথা জানিয়েছিলেন।এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হুমকির রিপোর্ট ছিল single-sourced এবং uncorroborated। অর্থাৎ একটিমাত্র সূত্রের উপর ভিত্তি করে সেই তথ্য এসেছিল।
তার স্বাধীন কোনও সমর্থনও পাওয়া যায়নি।
এমনকী তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি খতিয়ে দেখেছিল বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তাদের তদন্তে Ankara-য় Trump-কে হত্যার নির্দিষ্ট কোনও ছকের প্রমাণ মেলেনি।
তারপরও Secret Service ঝুঁকি নেয়নি। কারণ Trump-এর বিরুদ্ধে আগেও একাধিক হত্যাচেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তাই গোয়েন্দা তথ্য দুর্বল হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়।
Reuters-এর রিপোর্টে অবশ্য বলা হয়েছে, Secret Service হুমকিটিকে credible এবং imminent বলে মনে করেছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন রিপোর্টে হুমকির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে ভিন্ন মূল্যায়ন সামনে এসেছে। এই পার্থক্যই এখন ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। যে বিমানটিকে সবাই Trump-এর Air Force One বলে মনে করছিলেন, সেটিতে ছিলেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
Secretary of State Marco Rubio সেই বিমানে ছিলেন। Treasury Secretary Scott Bessent-ও ছিলেন। ছিলেন White House-এর কর্মী এবং সাংবাদিকদের একটি দল।
অর্থাৎ সম্ভাব্য হামলাকারীদের নজরে যদি বিমানটি পড়ত, তাহলে সেখানে Trump না থাকলেও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা থাকতেন। এই বিষয়টি নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠেছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, Rubio বিমান বদলের বিষয়টি জানতেন। তিনি হুমকির তথ্য সম্পর্কেও অবহিত ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে কেন তিনি Trump-এর সঙ্গে ছোট বিমানে যাননি, তা স্পষ্ট নয়। Bessent বিষয়টি জানতেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য নেই।
Reuters জানিয়েছে, Air Force One-এ Trump-এর সঙ্গে থাকার কথা ছিল ১৩ জনের প্রেস পুলের। তাঁদের মধ্যে Reuters-এর সাংবাদিক ও ফটোগ্রাফারও ছিলেন।
তাঁরা অনেক পরে জানতে পারেন, প্রেসিডেন্ট তাঁদের বিমানে ছিলেনই না।
এখন এই ঘটনায় আরও একটি রাজনৈতিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। কেন এমন একটি হুমকির ভিত্তিতে এত বড় গোপন অপারেশন চালানো হল? আর যদি মার্কিন গোয়েন্দারা তথ্যটিকে দুর্বল বলে মনে করে থাকে, তাহলে Secret Service কেন এত বড় ঝুঁকি নিল?
কিছু মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনে করছেন, ইজরায়েলের সতর্কবার্তার পিছনে শুধু নিরাপত্তা নয়, অন্য কৌশলও থাকতে পারে। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই সতর্কবার্তা Trump-এর সিদ্ধান্ত এবং ইরান নীতি প্রভাবিত করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এটিও একটি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন। এর স্বাধীন প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই ঘটনায় একটি বিষয় অবশ্য স্পষ্ট। ইরান নিয়ে Washington-এর নিরাপত্তা উদ্বেগ এখনও তীব্র। আর Trump-এর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মার্কিন Secret Service কোনও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
তবে ইজরায়েলের দেওয়া সতর্কবার্তা সত্যিই কোনও বাস্তব হত্যার ছকের ভিত্তিতে ছিল কি না, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। কারণ একদিকে রয়েছে Secret Service-এর সতর্কতা।
অন্যদিকে রয়েছে মার্কিন গোয়েন্দাদের সংশয়। আর মাঝখানে রয়েছে একটি সম্পূর্ণ গোপন বিমান বদলের অপারেশন।