Russia Drone Attack Ukraine
কিয়েভ: ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চার বছরেরও বেশি সময় পর ফের ভয়াবহ শক্তি প্রদর্শন করল রাশিয়া। সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর দাবি, এক রাতেই ৬৫৬টি ড্রোন এবং ৭৩টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চলমান যুদ্ধের অন্যতম বৃহত্তম সমন্বিত বিমান হামলা (Russia Drone Attack Ukraine) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও নিপ্রো, খারকিভ, পোলতাভা, জাপোরিজিয়া এবং আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহর এই হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। বিভিন্ন জায়গায় আবাসিক ভবন, স্কুল, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং জনবহুল এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। হামলার ফলে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের সেনা জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১১৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশুদেরও থাকার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১১ থেকে ১৮ জনের মধ্যে হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনীর দাবি, তারা রাশিয়ার নিক্ষেপ করা ৬০২টি ড্রোন এবং ৪০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও এত বিপুল সংখ্যক আক্রমণাত্মক অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার হওয়ায় বহু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। বিশেষ করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelensky এই হামলার তীব্র নিন্দা করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আরও শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, পশ্চিমা দেশগুলির অতিরিক্ত সহায়তা ছাড়া রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষ করে মার্কিন Patriot ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। Volodymyr Zelensky
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা শুধুমাত্র ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা (Russia Drone Attack Ukraine) চালিয়েছে। তবে ইউক্রেনের অভিযোগ, এই হামলায় সাধারণ নাগরিক এবং বেসামরিক অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের ড্রোন হামলা এবং রুশ অধিকৃত অঞ্চলে আক্রমণের জবাব হিসেবেই মস্কো এই বৃহৎ আকারের অভিযান চালিয়েছে। যুদ্ধবিরতি বা শান্তি আলোচনার কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় উভয় পক্ষই আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করছে। ফলে পূর্ব ইউরোপে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকাজ চলছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া মানুষদের খোঁজার চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। যুদ্ধের শুরু থেকে এটাই অন্যতম ভয়াবহ হামলা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।