PoJK Crisis
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (PoJK Crisis)-এ ফের অশান্তির আগুন জ্বলে উঠেছে। বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের জেরে একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রতিবাদ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (JAAC)। সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তান সরকার কাশ্মীরের মানুষের ন্যায্য দাবি উপেক্ষা করছে। বিদ্যুৎ, খাদ্যশস্যে ভর্তুকি, প্রশাসনিক সংস্কার এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব-সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছে তারা।
পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের প্রশাসন সম্প্রতি JAAC-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। সরকারের দাবি, সংগঠনটির কর্মসূচি জনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। নিষেধাজ্ঞার পরই বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বহু কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিনে সংঘর্ষে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
JAAC নেতা শওকত নওয়াজ মীর অভিযোগ করেছেন, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমিয়ে দিতেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করা হয়েছে এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে PoJK-এ অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যবৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক অসন্তোষ (PoJK Crisis) ক্রমশ বাড়ছে। সেই ক্ষোভই এবার বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ কাশ্মীর ইস্যু ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের অন্যতম স্পর্শকাতর বিষয়।
এদিকে নিরাপত্তা বাহিনীর কড়া নজরদারির মধ্যেই JAAC তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেরও।