• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Dave Fiji Helicopter Crash

বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মর্মান্তিক মৃত্যু! হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কেরল-মূলের ভারতীয় যুবকের

বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন কেরল-মূলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত পাইলট ডেভ ফিজি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় নববধূকে নিয়ে হেলিকপ্টারে রওনা হওয়ার পরই দুর্ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর স্ত্রী জেসনি।

বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মর্মান্তিক মৃত্যু! হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল কেরল-মূলের ভারতীয় যুবকের

Dave Fiji Helicopter Crash

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 1, 2026 11:08 am
  • Update:June 1, 2026 11:08 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত কখনও কখনও অপ্রত্যাশিতভাবে পরিণত হয় গভীর শোকে। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় (Dave Fiji Helicopter Crash) প্রাণ হারালেন কেরল-মূলের ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক ডেভ ফিজি। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তাঁর নববিবাহিতা স্ত্রী জেসনি ফিজি।

জানা গিয়েছে, জর্জিয়ার ডসনভিল শহরে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন ডেভ ও জেসনি। প্রায় চারশো অতিথির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় তাঁদের বিয়ের অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে নবদম্পতির বিদায় উপলক্ষে বিশেষ আয়োজন করা হয়। সেই আয়োজনের অংশ হিসেবেই তাঁরা একটি হেলিকপ্টারে করে যাত্রা শুরু করেন।

কিন্তু উড়ানের কিছুক্ষণ পরেই বিপর্যয় নেমে আসে। জর্জিয়ার ডসন কাউন্টির একটি বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারটি ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ডেভ এবং হেলিকপ্টার চালকের। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় জেসনিকে।

ডেভের বাবা জর্জ ফিজি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ছোটবেলা থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখতেন তাঁর ছেলে। সেই স্বপ্ন পূরণ করেই তিনি একটি আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থায় সহকারী চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের দাবি, যাত্রার আগে আবহাওয়া এবং দৃশ্যমানতা নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন ডেভ। তবুও নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী যাত্রা শুরু হয়।

শোকাহত বাবা বলেন, “আমার ছেলে খুব আনন্দে ছিল। ওর জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিন ছিল সেদিন। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে গেল।” তাঁর কথায় স্পষ্ট, এই দুর্ঘটনা গোটা পরিবারকে গভীরভাবে আঘাত করেছে।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে দুর্গম বনাঞ্চলে আটকে ছিলেন জেসনি। পরে উদ্ধারকারী দল তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জানা গিয়েছে, তাঁর শরীরে একাধিক আঘাত রয়েছে। যদিও কোনও হাড় ভাঙার খবর নেই। তবে মানসিকভাবে তিনি চরম ধাক্কার মধ্যে রয়েছেন।

ডেভ ফিজির পরিবারের শিকড় কেরলের এর্নাকুলাম জেলার মুভাট্টুপুঝা অঞ্চলে। বহু বছর আগে পরিবারটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস শুরু করে। ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনায় শুধু আমেরিকার ভারতীয় সম্প্রদায় নয়, কেরলের মানুষও শোকাহত।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে খারাপ আবহাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মার্কিন পরিবহণ নিরাপত্তা তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। হেলিকপ্টারের ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা চলছে।

নতুন জীবনের সূচনা, ভবিষ্যতের হাজারো স্বপ্ন আর পরিবারের আনন্দ— সবকিছুই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিণত হল এক গভীর শোকগাথায়। ডেভ ফিজির মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবারের জন্য নয়, বহু মানুষের কাছেই এক অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে রইল। তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দের দিনই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল সবচেয়ে বেদনাদায়ক স্মৃতি।

আরও খবর