Iran US Jordan Military Base
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে। কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এবার জর্ডানেও সতর্কতা জারি হয়েছে। দেশটির একাধিক এলাকায় এয়ার-রেইড সাইরেন বেজে ওঠে। এর জেরে গোটা অঞ্চলে নতুন করে উদ্বেগ (Iran US Jordan Military Base) ছড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সম্ভাবনার জেরে জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়। জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। যদিও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে সরাসরি হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও সরকারি নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জর্ডানে মার্কিন বাহিনীর একাধিক সামরিক স্থাপনা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এই ঘাঁটিগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ইরান তাদের পাল্টা অভিযানের অংশ হিসেবে এই ঘাঁটিগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
বৃহস্পতিবার জর্ডানের বিভিন্ন এলাকায় সাইরেন বাজতেই সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দেশের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এর আগেই ইরান কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। মার্কিন বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, জ্বালানি ডিপো এবং যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করা হয়েছে বলেও তেহরানের দাবি।
অন্যদিকে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডান জানিয়েছে, তাদের অধিকাংশ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। কিছু জায়গায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়লেও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর মেলেনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর। একের পর এক দেশে হামলার ফলে সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা বিমান হামলা চালিয়েছে। পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে কাতার, সৌদি আরব এবং অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক মহল অবিলম্বে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে হামলা বা পাল্টা হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।