Iran Attack Strategy
আমেরিকার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলতে কৌশল বদলেছে ইরান। এবার শুধু একটি ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের উপর নির্ভর করছে না তেহরান। একসঙ্গে ড্রোন এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে তারা। লক্ষ্য, মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একসঙ্গে একাধিক হুমকি সামলাতে বাধ্য করা।
এই কৌশলের পিছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতার প্রভাব রয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরেই ড্রোনের সঙ্গে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। ইরানও সেই ধরনের সমন্বিত হামলার পদ্ধতি গ্রহণ করেছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ইরান জর্ডনে থাকা তিনটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে চলা এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর চাপ তৈরি করা।
বিশেষ করে Patriot interceptor missile ব্যবস্থাকে বারবার ব্যবহার করতে বাধ্য করাই ছিল এই কৌশলের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রথম কয়েক দিন মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ incoming অস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু ১৭ জুলাই একটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ভেদ করে জর্ডনের একটি মার্কিন ঘাঁটির অস্থায়ী আবাসনে আঘাত হানে।
মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র আটকানো গেলেও একটি প্রতিরক্ষা ভেদ করে ঢুকে পড়েছিল। সেই হামলায় তিন মার্কিন সেনা নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ। কয়েকটি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনা মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপের বিষয়টি সামনে এনেছে।
ইরানের নতুন কৌশলের সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের মিল খুঁজে পাচ্ছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। ইউক্রেনে রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের আকাশপথে আসা অস্ত্র একসঙ্গে ব্যবহার করেছে।
এর ফলে প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে একই সময়ে একাধিক ধরনের হুমকি সামলাতে হয়। ইরানও এখন সেই ধরনের সমন্বিত পদ্ধতি ব্যবহার করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
এর পাশাপাশি কিছু ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথে পরিবর্তন আনার সক্ষমতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সেগুলির গতিপথ অনুমান করা আরও কঠিন হতে পারে।
Center for Strategic and International Studies-এর Seth G. Jones-এর মতে, একই সময়ে বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন এলে আকাশ প্রতিরক্ষার কাজ আরও কঠিন হয়ে ওঠে।
অর্থাৎ ইরানের লক্ষ্য শুধু আঘাত করা নয়। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যস্ত রাখাও কৌশলের অংশ।
এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল একাধিক ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল। অনেক ঘাঁটি ভূগর্ভে থাকায় সেগুলির একটি অংশ পরে আবার সক্রিয় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
ইরানের পাল্টা হামলার সঙ্গে মার্কিন interceptor missile মজুতের প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এক প্রতিবেদনে দুই মার্কিন অস্ত্র মজুত সম্পর্কে অবহিত ব্যক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, এই যুদ্ধে ১,৫০০-র বেশি Patriot interceptor ব্যবহার করেছে পেন্টাগন। মজুত রয়েছে ১,৭০০-র কম।
এই পরিসংখ্যান নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা শুধু প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে না। পর্যাপ্ত interceptor মজুত থাকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানের নতুন কৌশল তাই আমেরিকার সামনে দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। একদিকে incoming হামলা প্রতিহত করা। অন্যদিকে দীর্ঘ সংঘাতে প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুত ধরে রাখা।
তবে ইরানের এই কৌশল কতটা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একইভাবে মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সক্ষমতা নিয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় আসেনি।
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার। যুদ্ধ যত এগোচ্ছে, ততই ইরান তার হামলার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনছে। আর সেই পরিবর্তনের পিছনে ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।