Europe Heatwave
ইউরোপ জুড়ে তাপপ্রবাহ ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। একের পর এক দেশে পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ইটালিতে। দেশটির প্রায় সব বড় শহরে জারি হয়েছে সর্বোচ্চ স্তরের ‘রেড অ্যালার্ট’। অন্যদিকে, বিদ্যুতের চাহিদা সামাল দিতে রাজধানী বুদাপেস্টের ঐতিহাসিক ভবনগুলির আলো নিভিয়ে দিয়েছে হাঙ্গেরি। শুধু তাই নয়, ইউরোপের একাধিক দেশে মানুষ গরম থেকে বাঁচতে পাহাড়ি গুহা, জলাশয় এবং শীতল আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।
ইটালির স্বাস্থ্য মন্ত্রক দেশের ২৭টি প্রধান শহরে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। রোম, মিলান, ফ্লোরেন্স, নেপলস, পালেরমো— প্রায় সর্বত্র তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
পর্যটকদের ছাতা নিয়ে রাস্তায় হাঁটতে দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার শহরের ফোয়ারার জলে হাত-পা ভিজিয়ে সাময়িক স্বস্তি খুঁজছেন। প্রশাসন দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অপ্রয়োজনে বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দিয়েছে। পর্যাপ্ত জল পান এবং হালকা পোশাক পরারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের ব্যবহার রেকর্ড ছুঁয়েছে। ড্যানিউব নদীর জলস্তর কমে যাওয়ায় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বুদাপেস্টের সংসদ ভবন, বুডা ক্যাসল এবং বিখ্যাত চেইন ব্রিজের সাজসজ্জার আলো বন্ধ রাখা হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং গ্রিডের উপর চাপ কমানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনেক পর্যটক হতাশ হলেও স্থানীয়দের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন।
তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে জার্মানি, রোমানিয়া, ফ্রান্স, অস্ট্রিয়া, স্লোভাকিয়া এবং বলকান অঞ্চলেও।
জার্মানিতে নদীর জল কমে যাওয়ায় নৌ-পরিবহণে সমস্যা তৈরি হয়েছে। রোমানিয়ায় বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা জারি হয়েছে। বসনিয়ার বহু মানুষ গরম থেকে বাঁচতে শীতল গুহায় আশ্রয় নিচ্ছেন। একই সময়ে ফ্রান্সে দাবানলের ঝুঁকিও বেড়েছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র তাপপ্রবাহ এখন আরও ঘন ঘন দেখা যাবে। ফলে শুধু জনস্বাস্থ্য নয়, বিদ্যুৎ, কৃষি, পরিবহণ এবং পর্যটন— সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব বাড়বে।