• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Ebola Outbreak

ইবোলার নতুন আতঙ্কে কঙ্গো! এবার এমন ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে প্রস্তুত নয় বিজ্ঞান

কঙ্গোতে ছড়িয়ে পড়েছে Bundibugyo strain-এর ইবোলা ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। WHO সতর্ক করেছে, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।

ইবোলার নতুন আতঙ্কে কঙ্গো! এবার এমন ভাইরাস, যার বিরুদ্ধে প্রস্তুত নয় বিজ্ঞান

Ebola Outbreak

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 29, 2026 6:43 am
  • Update:May 29, 2026 6:43 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: আফ্রিকার গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (DRC) ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ইবোলা। তবে এবার পরিস্থিতি আগের চেয়েও উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, এই প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও’ (Bundibugyo) নামের একটি বিরল ইবোলা স্ট্রেন, যার বিরুদ্ধে এখনও কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা (Ebola Outbreak) নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইতুরি (Ituri) প্রদেশ। দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র সংঘর্ষ, বাস্তুচ্যুতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে অঞ্চলটি আগে থেকেই সংকটের মধ্যে ছিল। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। WHO-এর তথ্য অনুযায়ী, হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং শতাধিক মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হল এই Bundibugyo strain। অতীতে যে ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলির বিরুদ্ধে Ervebo-এর মতো ভ্যাকসিন ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলি মূলত Zaire strain-এর বিরুদ্ধে কার্যকর ছিল। কিন্তু বর্তমান Bundibugyo ভাইরাসের ক্ষেত্রে সেই সুরক্ষা প্রমাণিত নয়। WHO জানিয়েছে, এই স্ট্রেনের বিরুদ্ধে বর্তমানে কোনও অনুমোদিত ভ্যাকসিন বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। ফলে চিকিৎসকদের প্রধান ভরসা এখন সহায়ক চিকিৎসা এবং দ্রুত সংক্রমণ শনাক্তকরণ।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে কারণ রোগটি ইতিমধ্যেই সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী উগান্ডাতেও পৌঁছে গিয়েছে। WHO জানিয়েছে, কঙ্গো থেকে ভ্রমণ করা কয়েকজনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এর ফলে আঞ্চলিক সংক্রমণের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এই প্রাদুর্ভাব আরও কয়েকটি আফ্রিকান দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা সম্ভাব্য চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন নিয়ে দ্রুত গবেষণা চালাচ্ছেন। WHO তিনটি পরীক্ষামূলক চিকিৎসা পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পাশাপাশি Oxford University এবং Serum Institute of India-এর একটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন প্রার্থীও পরীক্ষার পর্যায়ে আনার চেষ্টা চলছে। তবে এই সব উদ্যোগ কার্যকর হতে এখনও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

সংক্রমণ মোকাবিলায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় পরিস্থিতি। ইতুরি অঞ্চলে বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যাপ্ত সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করছে। বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া স্থানীয় মানুষের একাংশের মধ্যে অবিশ্বাস ও ভ্রান্ত ধারণা থাকায় রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক Tedros Adhanom Ghebreyesus কঙ্গো সফরে গিয়ে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি কঠিন হলেও ইবোলা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে তার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, যুদ্ধবিরতি এবং দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রাদুর্ভাব বিশ্বকে আবারও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে যে সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি সবসময় সমান নয়। করোনা মহামারির পর বিশ্ব স্বাস্থ্যব্যবস্থা অনেক শিক্ষা পেলেও Bundibugyo strain-এর মতো বিরল ভাইরাসের ক্ষেত্রে এখনও বড় ঘাটতি রয়ে গেছে।

আপাতত কঙ্গো, উগান্ডা, WHO, আফ্রিকা CDC এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলি একযোগে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু নতুন এই ইবোলা স্ট্রেন কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে, তা নিয়ে এখনও বড় প্রশ্নচিহ্ন রয়ে গেছে।

আরও খবর