• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
TMC Rift in Parliament

বিধানসভার পর কি সংসদেও ভাঙন? তৃণমূলের অন্দরকলহ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

বিধানসভার ভাঙনের পর এবার কি সংসদীয় দলেও ফাটল ধরবে? তৃণমূলের সাংসদদের একাংশকে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা। দিল্লিতে মমতা-অভিষেকের তৎপরতায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা।

বিধানসভার পর কি সংসদেও ভাঙন? তৃণমূলের অন্দরকলহ নিয়ে বাড়ছে জল্পনা

TMC Rift in Parliament

Published by: cloud_admin
  • Posted:June 8, 2026 6:18 am
  • Update:June 8, 2026 6:18 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের অভিঘাত কি এবার পৌঁছে যাবে সংসদেও? রাজনৈতিক মহলে এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্নই। বিধানসভায় বিদ্রোহী বিধায়কদের একাংশের অবস্থান স্পষ্ট হওয়ার পর এবার লোকসভা ও রাজ্যসভার সাংসদদের নিয়েও জল্পনা (TMC Rift in Parliament) শুরু হয়েছে।

দলীয় সূত্র এবং রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, তৃণমূলের অন্দরে যে অস্থিরতা গত কয়েক সপ্তাহে প্রকাশ্যে এসেছে, তার প্রভাব সংসদীয় দলেও পড়তে পারে। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে নতুন করে সাজানোর সিদ্ধান্ত এবং একাধিক নেতা-নেত্রীর প্রকাশ্য অসন্তোষ নতুন করে প্রশ্ন তুলছে দলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে।

সম্প্রতি দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া কয়েকজন বিধায়ককে বহিষ্কার করা হয়েছে। বিদ্রোহী শিবিরের উত্থানের পর থেকেই তৃণমূল নেতৃত্ব ক্ষয়ক্ষতি নিয়ন্ত্রণে মরিয়া। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সক্রিয় তৎপরতাকেও সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা, বিদ্রোহী সাংসদদের একাংশ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে পৃথক অবস্থানের দাবি জানাতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে সংসদীয় দলে নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এরই মধ্যে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের একাধিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দলীয় নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী ফলাফল এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতা নিয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। সম্প্রতি তাঁকে লোকসভায় দলের চিফ হুইপ পদ থেকেও সরানো হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, বিধানসভার ভাঙন এবং সাংসদদের মধ্যে অসন্তোষ— এই দুই পরিস্থিতি যদি একসঙ্গে এগোয়, তাহলে তৃণমূলের জন্য তা বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে আগামী সংসদ অধিবেশন এবং জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের সমীকরণের সময় এই পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও প্রকাশ্যে দাবি করছে যে দল ঐক্যবদ্ধ রয়েছে এবং বিদ্রোহের জল্পনা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা চলছে।

এখন দেখার, বিধানসভার অস্থিরতা সংসদ পর্যন্ত গড়ায় কি না। কারণ যদি তা ঘটে, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও তার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।

আরও খবর