Sonam Wangchuk Hunger Strike
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: দীর্ঘ অনশনের পর অবশেষে অবস্থান বদলের ইঙ্গিত দিলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তবে এখনই অনশন ভাঙছেন না তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান সফল হলে তবেই অনশন প্রত্যাহার করবেন। এই ঘোষণার (Sonam Wangchuk Hunger Strike) পর তাঁর আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
দিল্লির যন্তর মন্তরে চলা অনশনের ২০তম দিনে সোনম ওয়াংচুক বলেন, তিনি যে আন্দোলন শুরু করেছেন, তা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত লড়াই নয়। এটি দেশের ছাত্র-যুব সমাজের ভবিষ্যৎ, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ।
সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, আগামী ২০ জুলাই সংসদের দিকে যে পদযাত্রার ডাক দেওয়া হয়েছে, সেটিই আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। তিনি বলেন, এই কর্মসূচি সফল হলে এবং সরকারের পক্ষ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস মিললে তিনি অনশন ভাঙতে প্রস্তুত।
তাঁর কথায়, আন্দোলনের লক্ষ্য কোনও ব্যক্তি নয়, বরং এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে প্রশ্নফাঁস, দুর্নীতি এবং অনিয়মের কোনও জায়গা থাকবে না।
প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অনশনে থাকার কারণে সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যদিও তিনি এখনও মানসিকভাবে দৃঢ় রয়েছেন, তবুও দীর্ঘ অনশন তাঁর শরীরের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে।
দিল্লি হাইকোর্টও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছে, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে তাঁর স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় হস্তক্ষেপ করতে হবে।
সোনম ওয়াংচুকের অনশনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সমাজকর্মী, আইনজীবী এবং শিক্ষাবিদ। সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনও তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়ে বলেছে, তাঁর উত্থাপিত বিষয়গুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির উচিত আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খোঁজা।
এদিকে আন্দোলনকারীরা দেশজুড়ে ছাত্র-যুবকদের ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগের জেরে এই আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলনকারীদের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে কার্যকর সংস্কার আনতে হবে।
সোনম ওয়াংচুকের বক্তব্য, দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে আর কোনও আপস করা যাবে না। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০ জুলাইয়ের সংসদ অভিযান এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। যদি বড় সংখ্যায় মানুষ এই কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং সরকারের সঙ্গে আলোচনার পথ খুলে যায়, তাহলে সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন ভাঙতে পারেন।
অন্যদিকে, দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে আগামী কয়েক দিন দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে এই আন্দোলন বিশেষ গুরুত্ব পেতে চলেছে।