• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Sonam Wangchuk Father

বাবার পথেই সোনম ওয়াংচুক? ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক থেকে আজকের আন্দোলন—নতুন করে আলোচনায় লাদাখের ইতিহাস

সোনম ওয়াংচুকের বর্তমান আন্দোলনের প্রেক্ষিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর বাবা সোনম ওয়াংয়ালের ১৯৮৪ সালের ঐতিহাসিক অনশন।

বাবার পথেই সোনম ওয়াংচুক? ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক থেকে আজকের আন্দোলন—নতুন করে আলোচনায় লাদাখের ইতিহাস

Sonam Wangchuk Father

Published by: cloud_admin
  • Posted:July 19, 2026 10:45 pm
  • Update:July 19, 2026 10:45 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক : লাদাখের পরিবেশবিদ, উদ্ভাবক এবং সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক আবারও জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর চলমান আন্দোলন এবং অনশনকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর বাবা সোনম ওয়াংয়ালের নাম। প্রায় চার দশক আগে লাদাখের মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের দাবিতে তিনিও অনশনে (Sonam Wangchuk Father) বসেছিলেন। সেই আন্দোলনে হস্তক্ষেপ করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। আজ অনেকেই সেই ইতিহাসের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল খুঁজে পাচ্ছেন।

লাদাখের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মুখ ছিলেন সোনম ওয়াংয়াল

সোনম ওয়াংয়াল লাদাখের একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ছিলেন। তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। লাদাখের উন্নয়ন, প্রশাসনিক স্বীকৃতি এবং পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে আন্দোলন করেছেন।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য ছিল লাদাখের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের জন্য তফসিলি উপজাতি (Scheduled Tribe বা ST) মর্যাদা নিশ্চিত করা।

১৯৮৪ সালের ঐতিহাসিক অনশন

১৯৮৪ সালে সোনম ওয়াংয়াল ST মর্যাদার দাবিতে অনশন শুরু করেন। আন্দোলন দ্রুত সারা দেশের নজর কাড়ে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নিজেই লেহ সফর করেন।

তিনি সোনম ওয়াংয়ালের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। আন্দোলনের দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। এরপর আশ্বাসের ভিত্তিতে অনশন প্রত্যাহার করা হয়। পরে লাদাখের বিভিন্ন সম্প্রদায় তফসিলি উপজাতির স্বীকৃতি পায়। লাদাখের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই ঘটনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে ধরা হয়।

আজ একই পথে ছেলে?

বর্তমানে সোনম ওয়াংচুকও লাদাখের সাংবিধানিক অধিকার, পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় মানুষের স্বার্থ নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর সাম্প্রতিক অনশন দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বাবা যেমন অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন, ছেলেও একই গণতান্ত্রিক পথ অনুসরণ করছেন। এই কারণেই ১৯৮৪ সালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ আবার সামনে এসেছে।

কেন আন্দোলন করছেন সোনম ওয়াংচুক?

লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণার পর থেকেই সোনম ওয়াংচুক একাধিক দাবি তুলে ধরেছেন। তাঁর অন্যতম দাবিগুলি হলো—

  • লাদাখের জন্য সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের সুরক্ষা।
  • পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় কঠোর আইন।
  • স্থানীয় জনগণের জমি ও চাকরির অধিকার নিশ্চিত করা।
  • লাদাখের মানুষের জন্য আরও কার্যকর গণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব।

তাঁর দাবি, হিমালয় অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য এই পদক্ষেপগুলি জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতি

সাম্প্রতিক অনশন চলাকালীন সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আদালতের নির্দেশে তাঁর স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ শুরু হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে থাকলেও তিনি আন্দোলনের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

হাসপাতাল থেকেও তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

১৯৮৪ সালে কেন্দ্র সরকার আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ বেছে নিয়েছিল। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী নিজে লেহে গিয়ে আন্দোলনকারীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সেই ঘটনার তুলনা টেনে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল আলোচনা শুরু করেছে।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই সময়ের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট এক নয়। তাই সরাসরি তুলনা করার আগে সেই পার্থক্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

লাদাখের রাজনৈতিক ইতিহাসে সোনম ওয়াংয়াল একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। চার দশক আগে যে দাবি নিয়ে তিনি আন্দোলন করেছিলেন, আজ সেই ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে তাঁর ছেলে সোনম ওয়াংচুকের আন্দোলনের সূত্র ধরে। যদিও দুই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন, তবুও অহিংস আন্দোলনের ধারাবাহিকতা লাদাখের গণআন্দোলনের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেই থেকে গেছে।

আরও খবর