Raghav Chadha
NEET-কে ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে এতদিন নীরব ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। অবশেষে সংসদে মুখ খুলে তিনি জানালেন, তাঁর নীরবতা ছিল পরিকল্পিত। কারণ বিরোধী রাজনীতি থেকে সরকারপক্ষের ভূমিকায় আসার পর তাঁর দায়িত্বের ধরন বদলে গিয়েছে। তাই শুধু প্রতিবাদ নয়, তিনি চেয়েছেন সমস্যার বাস্তব সমাধান।
চাড্ডা বলেন, সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে আসা বা ক্যামেরার সামনে উপস্থিতি জানান দেওয়া তাঁর লক্ষ্য ছিল না। তিনি অপেক্ষা করছিলেন এমন একটি সময়ের জন্য, যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ সামনে আসবে। তাঁর দাবি, এখন সেই সময় এসেছে।
সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাঘব চাড্ডা বলেন, বিরোধী দলের সাংসদ থাকাকালীন তাঁর দায়িত্ব ছিল সরকারের সমালোচনা করা। কিন্তু এখন তিনি সরকারপক্ষের সদস্য হিসেবে সমস্যার সমাধান খোঁজার কাজে যুক্ত।
তিনি জানান, NEET নিয়ে শুরু থেকেই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তবে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বদলে প্রশাসনিক সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তাঁর মতে, বাস্তব পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় জবাব।
চাড্ডা আরও বলেন, তিনি নিজের কাছে প্রতিশ্রুতি নিয়েছিলেন যে, সংসদে তখনই মুখ খুলবেন যখন পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সাম্প্রতিক মাসগুলিতে NEET-UG পরীক্ষা নিয়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস (NEET Paper Leak), অনিয়ম এবং স্বচ্ছতা নিয়ে দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলন হয়েছে। বিষয়টি সংসদেও একাধিকবার উত্তপ্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
কেন্দ্র ইতিমধ্যেই পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে। এছাড়া পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে কঠোর আইনি কাঠামো এবং পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়েও জোর দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টও দীর্ঘমেয়াদি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর গুরুত্ব দিয়েছে।
চাড্ডার বক্তব্যে সেই সংস্কার প্রক্রিয়ার উল্লেখই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
রাঘব চাড্ডা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ। তিনি বলেন, রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করাই হওয়া উচিত সবার প্রথম লক্ষ্য।
তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সমর্থকদের দাবি, সমস্যার সমাধানের জন্য অপেক্ষা করাই ছিল দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন, এত বড় বিতর্কের সময় এতদিন নীরব থাকা কি যুক্তিযুক্ত ছিল?
তবে চাড্ডার বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার—তিনি দাবি করছেন, তাঁর লক্ষ্য কখনও রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। বরং এমন একটি পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন।