Priyanka Gandhi
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: লোকসভার অধিবেশনে শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে আনা সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হল। কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র সরকারের গঠিত নতুন শিক্ষা সংস্কার কমিটির এক সদস্যকে ইঙ্গিত করে ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ বলে মন্তব্য করেন। যদিও তিনি কারও নাম নেননি, বিজেপির দাবি তাঁর মন্তব্যটি ছিল আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর প্রফেসর ভি কামাকোটিকে উদ্দেশ্য করেই। এরপরই বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর কড়া ভাষায় পাল্টা আক্রমণ করেন।
প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সরকারের নতুন উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তাঁর বক্তব্য, শুধুমাত্র নতুন কমিটি গঠন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। আগের রাধাকৃষ্ণন কমিটির সুপারিশও বাস্তবায়িত হয়নি। এরপর তিনি বলেন, নতুন কমিটিতে একজন প্রাক্তন আইবি প্রধান, একটি আইটি সংস্থার কর্তা এবং একজন ‘গোমূত্র বিশেষজ্ঞ’ রয়েছেন। এই মন্তব্যের পরই লোকসভায় শোরগোল শুরু হয়। যদিও তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি।
আইআইটি মাদ্রাজের ডিরেক্টর প্রফেসর ভি কামাকোটি অতীতে গোমূত্রের সম্ভাব্য ঔষধি গুণ নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এ বিষয়ে কিছু গবেষণাপত্রে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি বৈশিষ্ট্যের উল্লেখ রয়েছে। সেই বক্তব্য নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সমালোচকদের একাংশ এই দাবিকে বৈজ্ঞানিকভাবে অপর্যাপ্ত বলে প্রশ্ন তুলেছিলেন, অন্যদিকে কামাকোটি নিজের বক্তব্যের সমর্থনে গবেষণার উল্লেখ করেছিলেন।
প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মন্তব্যের জবাবে অনুরাগ ঠাকুর বলেন, দেশের একজন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদকে অপমান করা হয়েছে। তিনি কংগ্রেসকে নিশানা করে দাবি করেন, রাজনৈতিক আক্রমণের জন্য শিক্ষাবিদদের টার্গেট করা উচিত নয়। বক্তব্যের শেষদিকে তিনি কটাক্ষ করে বলেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও তাঁর ভাই রাহুল গান্ধীর মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। তাঁর মন্তব্যও সংসদে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসদের বাইরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকার প্রকৃত শিক্ষা সংস্কারের বদলে নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে মূল সমস্যা এড়িয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, বিরোধীরা দেশের সম্মানিত বিজ্ঞানীদের অপমান করছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা—সব মিলিয়ে এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।