Prashant Kishor
বিহারের রাজনীতিতে বড় অঘটন ঘটালেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিক হওয়া প্রশান্ত কিশোর। বহুদিন ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বাঁকিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে নিল তাঁর দল জন সুরাজ। বিজেপি প্রার্থী নীরজ কুমার সিনহাকে প্রায় ১৯ হাজার ভোটে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে শুধু একটি আসন নয়, বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন বার্তা দিল জন সুরাজ।
বাঁকিপুর দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে এই কেন্দ্রে বিজেপির আধিপত্য ছিল অটুট। কিন্তু এবারের উপনির্বাচনে সেই চিত্র বদলে গেল। ভোট গণনার প্রথম দিক থেকেই প্রশান্ত কিশোর এগিয়ে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন।
এই উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক ও বর্তমান রাজ্যসভার সদস্য নীতিন নবীনের আসন শূন্য হওয়ার পর। ফলে এই কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক মহলে প্রবল আগ্রহ ছিল।
বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী কৌশল তৈরির জন্য পরিচিত ছিলেন প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু নিজের দল গঠন করে সরাসরি নির্বাচনে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তাঁকে নানা সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল।
তবে বাঁকিপুরের এই জয় তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তা, দীর্ঘদিনের জনসংযোগ এবং বিকল্প রাজনীতির বার্তা তাঁকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। একইসঙ্গে প্রচারে স্থানীয় ইস্যুকে গুরুত্ব দেওয়াও ফল দিয়েছে।
এই ফলাফলের পর বিহারের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। জন সুরাজ এখন আর শুধুই একটি নতুন দল নয়, বরং রাজ্যের বড় রাজনৈতিক শক্তিগুলির সামনে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ।
বিজেপির জন্য এই ফল ধাক্কা হলেও জন সুরাজের কাছে এটি সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির বড় সুযোগ। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশান্ত কিশোরের দল নতুন উদ্যমে মাঠে নামবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এই জয় প্রমাণ করল, বিহারের ভোটারদের একাংশ পরিবর্তনের পক্ষে মত দিচ্ছেন। সেই পরিবর্তনের মুখ হিসেবেই এখন উঠে আসছেন প্রশান্ত কিশোর।