Pawanraje Nimbalkar Murder Case
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ফের সামনে এসেছে ২০ বছরের পুরনো একটি খুনের মামলা। আর সেই মামলাই (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) এখন উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (ইউবিটি)-র অন্দরে তৈরি হওয়া নতুন রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে।
ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পওয়ানরাজে নিম্বলকর। ২০০৬ সালে খুন হন এই প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা। দীর্ঘ দুই দশক ধরে চলা মামলার শুনানি এখন শেষ পর্যায়ে। শীঘ্রই রায় ঘোষণা করতে পারে বিশেষ সিবিআই আদালত। আর ঠিক এই সময়েই নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে।
পওয়ানরাজের ছেলে ওমরাজে নিম্বলকর বর্তমানে শিবসেনা (ইউবিটি)-র সাংসদ। এতদিন তাঁকে উদ্ধব ঠাকরের অন্যতম ঘনিষ্ঠ নেতা বলেই মনে করা হত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তাঁর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তিনি বিদ্রোহী শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
পওয়ানরাজে নিম্বলকর একসময় ওসমানাবাদ অঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় রাজনৈতিক মুখ ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান অনেকের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার জেরেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল।
২০০৬ সালের ৩ জুন নবি মুম্বইয়ের কালম্বোলি এলাকায় পওয়ানরাজে নিম্বলকর ও তাঁর চালককে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন ফেলে। পরে মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার পর এখন মামলাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রায় ২০ বছরে ১২০ জনেরও বেশি সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। আদালতের রায়কে ঘিরে এখন নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা সঞ্জয় রাউত দাবি করেছেন, মামলার রায়কে কেন্দ্র করেই কিছু রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সেই চাপের কারণেই দলের কিছু সাংসদ অবস্থান বদলানোর কথা ভাবছেন।
যদিও এই অভিযোগের (Pawanraje Nimbalkar Murder Case) কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। তবুও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ওমরাজে নিম্বলকরের নাম সামনে আসায় জল্পনা আরও বেড়েছে।
এরই মধ্যে মহারাষ্ট্রে ফের শুরু হয়েছে ‘অপারেশন টাইগার’-এর আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের দাবি, একনাথ শিন্ডে শিবির উদ্ধব ঠাকরের দলের কয়েকজন সাংসদকে নিজেদের দিকে টানার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতি উদ্ধব শিবিরের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২০২২ সালে একনাথ শিন্ডের বিদ্রোহের ফলে শিবসেনা ভেঙে যায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারাতে হয়েছিল উদ্ধব ঠাকরেকে। সেই ঘটনার স্মৃতি এখনও তাজা। ফলে নতুন করে কোনও বিদ্রোহের সম্ভাবনা দেখা দিলে স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হয়ে উঠছে দল।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেন উদ্ধব ঠাকরে। বৈঠকের পরে দলের তরফে দাবি করা হয়েছে, সব সাংসদই উদ্ধবের নেতৃত্বে আস্থা রেখেছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ এখনও মনে করছে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, পওয়ানরাজে নিম্বলকর খুনের মামলা শুধুমাত্র একটি অপরাধমূলক মামলা নয়। এটি মহারাষ্ট্রের আঞ্চলিক রাজনীতি, ক্ষমতার লড়াই এবং রাজনৈতিক সম্পর্কের জটিল সমীকরণের সঙ্গেও জড়িত। তাই আদালতের রায় এবং তার রাজনৈতিক প্রভাবের দিকে এখন নজর রয়েছে গোটা রাজ্যের।