পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় ইতিমধ্যেই ৯টি এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং অন্তত ৬ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে রয়েছে টিম লিডার এবং সংস্থার এইচআর বিভাগের সদস্যও। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে—যৌন হেনস্তা, অশালীন আচরণ, বিবাহের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, এমনকি ধর্মীয় অপমানের ঘটনাও।
এই ঘটনার মোড় ঘোরে যখন পুলিশ একটি আন্ডারকভার অপারেশন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ৭ জন মহিলা পুলিশকর্মী কর্মী সেজে ওই সংস্থায় প্রবেশ করেন এবং একটি মিটিং চলাকালীন অভিযুক্তদের অশালীন আচরণ সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। সেই সময়ই মূল অভিযুক্তকে ‘হাতেনাতে’ ধরে ফেলা হয়।
Advertisement
তদন্তে আরও জানা গেছে, বহু ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তারা তা গুরুত্ব দেননি। বরং কিছু ক্ষেত্রে অভিযোগকে উপেক্ষা করা বা অভিযুক্তদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বেশিরভাগ ভুক্তভোগীর বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। তাদের অনেককে কর্মক্ষেত্রে অশালীন মন্তব্য, অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এবং ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অপমানজনক প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগও রয়েছে—যেখানে জোর করে নির্দিষ্ট আচরণ বা খাবার চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় প্রমাণ হিসেবে ৪০টিরও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আরও ভুক্তভোগীদের সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সামনে আরও অভিযোগ সামনে আসতে পারে এবং মামলার বিস্তার আরও বড় আকার নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা কর্পোরেট কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একইসঙ্গে, পুলিশের এই ছদ্মবেশী অভিযান একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে—অভিযোগকে গুরুত্ব না দিলে আইন নিজেই প্রমাণ সংগ্রহ করে সামনে আনতে পারে।
সব মিলিয়ে, নাসিকের এই ঘটনা শুধু একটি অপরাধের তদন্ত নয়—বরং এটি কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে উঠেছে। এখন নজর তদন্তের অগ্রগতির দিকে—এই মামলায় আরও কত বড় চক্র সামনে আসে, সেটাই দেখার।