Modi WFH Iran crisis
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলতে থাকা ইরান-সংকট এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi দেশের মানুষকে জ্বালানি সাশ্রয়, বিদেশ ভ্রমণ কমানো এবং আবারও Work From Home (WFH) চালুর আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু তাঁর এই বার্তাকেই এবার তীব্র আক্রমণের হাতিয়ার করেছে বিরোধীরা (Modi WFH Iran crisis)।
কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (UBT)-সহ একাধিক বিরোধী দল অভিযোগ করেছে, কেন্দ্র সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এখন সাধারণ মানুষের উপর “সংকটের বোঝা” চাপিয়ে দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হায়দরাবাদে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের মানুষকে “দায়িত্বশীল জীবনযাপন”-এর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংঘাতের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ও জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতবাসীকেও কিছু সতর্কতা মেনে চলতে হবে।
মোদী দেশবাসীকে মেট্রো, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট এবং কারপুল ব্যবহারের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি সংস্থাগুলিকে আবারও Work From Home, অনলাইন মিটিং এবং ভার্চুয়াল কনফারেন্সের দিকে ফেরার আহ্বান জানান, যাতে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানো যায়।
শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী বিদেশে বিয়ে, ছুটি বা অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়ানোর কথাও বলেন। একই সঙ্গে তিনি সোনা কেনার প্রবণতা কমানোর আবেদন জানান, যাতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ কমে।
প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই বিরোধীরা সরব হয়ে ওঠে। Rahul Gandhi কড়া ভাষায় কেন্দ্রকে আক্রমণ করে বলেন, “মানুষকে সোনা কিনতে বারণ, বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ এবং WFH-এর পরামর্শ— এগুলো সরকারের ব্যর্থতার প্রমাণ।” তাঁর দাবি, সরকার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না বলেই এমন বার্তা দিতে বাধ্য হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এবং শিবসেনা (UBT)-এর নেতারাও প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কি দেশের সামনে আরও বড় অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা দেখছে? বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার একদিকে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা বলছে, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ বাড়তেই রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ভারতের জন্য যথেষ্ট উদ্বেগের। কারণ ভারতের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং LPG আমদানি হয় উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে। বিশেষ করে Strait of Hormuz-এ উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালী ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভারতীয় জাহাজের উপর হামলা ও জ্বালানি সরবরাহে ব্যাঘাতের ঘটনাও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য জ্বালানি ব্যবহার কমানো এবং বৈদেশিক মুদ্রা সংরক্ষণ করা বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের উপর দায় চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর WFH মন্তব্য ঘিরে কর্পোরেট মহলেও নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বহু সংস্থা ইতিমধ্যেই হাইব্রিড মডেলে ফিরে গিয়েছে। তবে আবারও কোভিড-পর্বের মতো বৃহৎ পরিসরে Work From Home চালু করা কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি আরও জটিল হলে আগামী দিনে জ্বালানি, পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে। আর সেই আশঙ্কাই এখন দেশের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।