• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Karnataka Leadership Change

কর্নাটকে কংগ্রেসে বড় পালাবদল! মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন সিদ্ধারামাইয়া, সামনে ডি কে শিবকুমার?

কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের নেতৃত্ব বদল প্রায় চূড়ান্ত। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোর জল্পনা, আর তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে উঠে আসছে ডি কে শিবকুমারের নাম। দিল্লিতে কংগ্রেস হাইকমান্ডের বৈঠকের পর রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে।

কর্নাটকে কংগ্রেসে বড় পালাবদল! মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়ছেন সিদ্ধারামাইয়া, সামনে ডি কে শিবকুমার?

Karnataka Leadership Change

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 28, 2026 7:19 am
  • Update:May 28, 2026 7:19 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কর্নাটকের রাজনীতিতে জোর চাঞ্চল্য। দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে কংগ্রেস শাসিত কর্নাটকে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত (Karnataka Leadership Change) স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং তাঁর জায়গায় উপমুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তুতি শুরু করেছে কংগ্রেস হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই বেঙ্গালুরুতে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে।

বৃহস্পতিবার সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্রেকফাস্ট বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ডি কে শিবকুমার-সহ একাধিক মন্ত্রী ও কংগ্রেস বিধায়ক। বৈঠকের পর প্রকাশ্যে আসে একাধিক প্রতীকী ছবি। কোথাও দেখা যায় ডি কে শিবকুমার সিদ্ধারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করছেন, আবার কোথাও দু’জনকে আলিঙ্গন করতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই দৃশ্য কেবল সৌজন্য নয়, বরং কর্নাটকের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত।

কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে রাহুল গান্ধী ও মল্লিকার্জুন খাড়গের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর নেতৃত্ব পরিবর্তনের বিষয়টি কার্যত চূড়ান্ত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরেই কর্নাটকে ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ ফর্মুলা নিয়ে জল্পনা চলছিল। ২০২৩ সালে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই শোনা যাচ্ছিল, প্রথম আড়াই বছর সিদ্ধারামাইয়া এবং পরবর্তী সময়ে ডি কে শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। যদিও দল কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তির কথা স্বীকার করেনি।

এখন সেই জল্পনাই বাস্তবের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিদ্ধারামাইয়া তাঁর ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীদের জানিয়েছেন যে তিনি পদত্যাগ করতে প্রস্তুত। এমনকি গভর্নরের কাছে সময় চাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। তবে গভর্নর থাওয়ারচাঁদ গেহলট বর্তমানে রাজ্যের বাইরে থাকায় আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ প্রক্রিয়ায় কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

ডি কে শিবকুমার দীর্ঘদিন ধরেই কর্নাটক কংগ্রেসের অন্যতম শক্তিশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয়ে তাঁর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। দলের ভিতরে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা ও আর্থিক ম্যানেজমেন্ট ক্ষমতা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা রয়েছে। ফলে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী করার দাবিও দীর্ঘদিনের।

তবে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। সিদ্ধারামাইয়ার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর AHINDA ভোটব্যাঙ্ক—সংখ্যালঘু, পিছিয়ে পড়া শ্রেণি ও দলিত সম্প্রদায়ের উপর তাঁর গভীর প্রভাব রয়েছে। কর্নাটকের বহু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, তাঁকে সরিয়ে দিলে ওই ভোটব্যাঙ্কের একাংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে। ইতিমধ্যেই কর্নাটক স্টেট ফেডারেশন অফ ব্যাকওয়ার্ড ক্লাস কমিউনিটিজ কংগ্রেসকে সতর্ক করেছে যে সিদ্ধারামাইয়াকে সরালে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

অন্যদিকে বিজেপিও এই ইস্যুকে রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা শুরু করেছে। বিজেপির তরফে দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে চলে এসেছে এবং এতে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ওবিসি রাজনীতির প্রশ্ন তুলে বিজেপি কংগ্রেসকে চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছে।

যদিও কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেনি, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের বড় অংশই মনে করছে কর্নাটকে ক্ষমতার পালাবদল এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা। যদি শেষ পর্যন্ত ডি কে শিবকুমার মুখ্যমন্ত্রী হন, তাহলে তা শুধু কর্নাটক নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হয়ে উঠবে।

আরও খবর