Kanpur Petrol Pump Scam
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি কম দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু গাড়ির ট্যাঙ্কের ধারণক্ষমতার থেকেও বেশি পেট্রোল ভরে বিল ধরানোর অভিযোগে এবার চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তরপ্রদেশের কানপুরে। একটি পেট্রোল পাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন এক গাড়ির মালিক। তাঁর দাবি, ৪৫ লিটার ধারণক্ষমতার গাড়ির ট্যাঙ্কে ৫২ লিটারেরও বেশি পেট্রোল ভরে দেওয়া হয়েছে বলে বিল দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ (Kanpur Petrol Pump Scam) প্রকাশ্যে আসতেই প্রশাসন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, কানপুরের হর্ষ নগর এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে এই ঘটনা ঘটে। গাড়ির মালিক চরণ সিং জানান, তিনি সম্প্রতি একটি নতুন গাড়ি কিনেছেন। পাম্পে যাওয়ার সময় গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরোপুরি খালি ছিল না। তাঁর দাবি, গাড়িতে আগে থেকেই প্রায় ৫ লিটার পেট্রোল ছিল। এরপর তিনি ট্যাঙ্ক ফুল করার জন্য পাম্পকর্মীদের বলেন।
চরণ সিংয়ের অভিযোগ, প্রথমে তাঁর গাড়িতে ৪১ লিটার পেট্রোল ভরা হয়। পরে পাম্পকর্মীরা জানান, বেশি পরিমাণ জ্বালানি দুই ধাপে ভরতে হয়। সেই যুক্তি দেখিয়ে আরও ১১ লিটার পেট্রোল যোগ করা হয়। শেষে তাঁকে মোট ৫২ লিটার পেট্রোলের বিল ধরানো হয়।
বিল হাতে পাওয়ার পরই সন্দেহ হয় গাড়ির মালিকের। কারণ গাড়ির সরকারি নথি অনুযায়ী ট্যাঙ্কের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ৪৫ লিটার। উপরন্তু, ট্যাঙ্কে আগে থেকেই কিছু পেট্রোল ছিল বলে তাঁর দাবি। ফলে ৫২ লিটারের বেশি জ্বালানি ঢোকানো কার্যত অসম্ভব (Kanpur Petrol Pump Scam) বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর চরণ সিং গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থার প্রতিনিধিকেও ঘটনাস্থলে ডাকেন। তাঁর দাবি, সংস্থার প্রতিনিধিও স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ওই মডেলের গাড়িতে ৪৫ লিটারের বেশি পেট্রোল ধরার কথা নয়। এরপরই তিনি পাম্প কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সাধারণ গ্রাহকদের একাংশও পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি বিক্রির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। ক্রমবর্ধমান জ্বালানির দামের মধ্যে এই ধরনের অভিযোগ গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
চরণ সিংয়ের অভিযোগ, শুধু এই একটি পাম্প নয়, বিভিন্ন জায়গায় একই ধরনের কারচুপির ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি প্রশাসনের কাছে পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের পর জেলা প্রশাসন এবং ওজন ও পরিমাপ দপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট পেট্রোল পাম্পের মেশিন এবং জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে আদৌ প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল, নাকি সত্যিই কোনও প্রতারণা হয়েছে।