• ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
  • সোমবার
  • ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
JNU professor sexual harassment

ভাইভায় যৌন সুবিধার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের প্রস্তাব? JNU অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ১১ পড়ুয়ার অভিযোগ

JNU-এর এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছেন ১১ জন পড়ুয়া। অভিযোগ, ভাইভা পরীক্ষায় যৌন সুবিধার বিনিময়ে বাড়তি নম্বর দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। ক্লাস ও ক্যাম্পাসের বাইরের কিছু ঘটনাতেও আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ICC তদন্ত শুরু করেছে।

ভাইভায় যৌন সুবিধার বিনিময়ে বাড়তি নম্বরের প্রস্তাব? JNU অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ১১ পড়ুয়ার অভিযোগ

JNU professor sexual harassment

Published by: cloud_admin
  • Posted:September 7, 2026 1:46 pm
  • Update:September 7, 2026 1:46 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (JNU)-এর এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ১১ জন পড়ুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের Internal Complaints Committee বা ICC-র কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন বলে খবর। তাঁদের অভিযোগ, ভাইভা পরীক্ষার সময় অধ্যাপক যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন এবং যৌন সুবিধার বিনিময়ে বেশি নম্বর দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ICC তদন্ত শুরু করেছে।

ভাইভার পর WhatsApp গ্রুপে প্রকাশ্যে আসে অভিযোগ

মে মাসের প্রথম সপ্তাহে ভাইভা পরীক্ষার পর এক পড়ুয়া শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীদের একটি WhatsApp গ্রুপে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান। এরপর আরও কয়েকজন পড়ুয়া একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন।

অভিযোগকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভাইভার সময় অধ্যাপক এমন কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যাতে যৌন ইঙ্গিত ছিল। এমনও অভিযোগ উঠেছে যে, পড়ুয়ারা তাঁর কথিত প্রস্তাবে সাড়া দিলে তাঁদের অতিরিক্ত নম্বর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে আরও পড়ুয়া মুখ খোলেন।

শুধু ভাইভা নয়, ক্লাস ও ব্যক্তিগত আমন্ত্রণ নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগের পরিধি শুধু ভাইভা পরীক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। কয়েকজন পড়ুয়া দাবি করেছেন, অধ্যাপক JNU ক্যাম্পাসে তাঁর বাসভবনে আয়োজিত কিছু অনুষ্ঠানে তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন এবং সেখানে অস্বস্তিকর বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণ করেছিলেন।

কিছু অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ক্লাস চলাকালীনও অধ্যাপক আপত্তিকর বা অশালীন মন্তব্য করেছেন। পরে আরও কয়েকজন, তাঁদের মধ্যে সিনিয়র পড়ুয়ারাও রয়েছেন, একই ধরনের অভিযোগ নিয়ে সামনে আসেন।

ICC-তে তদন্ত শুরু

অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর JNU-এর Internal Complaints Committee বিষয়টি নিয়ে প্রক্রিয়া শুরু করে এবং অভিযোগকারী পড়ুয়াদের বক্তব্য রেকর্ড করার জন্য ডেকে পাঠায়।

মে মাসে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৪৫ দিনের সেমেস্টার ব্রেক শুরু হয়। জুলাইয়ে ক্লাস ফের শুরু হলে ক্যাম্পাসে বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে বলে  সূত্রের দাবি।

ICC এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি অভ্যন্তরীণ এবং বর্তমানে তদন্তাধীন। JNU প্রশাসনের তরফেও এখনও অভিযোগগুলি নিয়ে কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, তদন্ত চলছে

এই ঘটনার ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ICC তদন্ত শেষ করার পরই অভিযোগগুলির সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।

JNU-তে এর আগেও যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের Executive Council চার কর্মীকে পৃথক মামলায় বরখাস্ত করেছিল; তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন School of International Studies-এর সিনিয়র অধ্যাপক স্বরণ সিং, যাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ছিল।

আরও খবর