S Jaishankar Deepfake Video
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছিল যে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর মার্কিন প্রশাসনের কাছে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্যদের ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ভিডিওটি (S Jaishankar Deepfake Video) ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই সেটিকে সত্যি বলে ধরে নিতে শুরু করেন। তবে পরে বিষয়টি নিয়ে সামনে আসে বড় তথ্য।
সরকারি ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা PIB Fact Check জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়ো এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, আসল ভিডিওকে ডিজিটালভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে এবং সেখানে বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ভিডিওতে মুখের অভিব্যক্তি, ঠোঁটের নড়াচড়া এবং কণ্ঠস্বর এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে যাতে দেখে সাধারণ মানুষের পক্ষে সেটিকে আসল মনে হওয়া স্বাভাবিক। আধুনিক AI প্রযুক্তির সাহায্যে বর্তমানে এই ধরনের ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে, যা এখন বিশ্বজুড়েই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিপফেক প্রযুক্তি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কোনও ব্যক্তি বাস্তবে কোনও কথা না বললেও প্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর মুখ ও কণ্ঠ ব্যবহার করে নতুন বক্তব্য তৈরি করা যায়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই সাধারণ মানুষের পক্ষে সত্যি এবং মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
PIB-এর তরফে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কোনও ভিডিও বা তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলেই তা সত্যি বলে ধরে নেওয়া উচিত নয় বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে কোনও বক্তব্য সামনে এলে তা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে যাচাই করা প্রয়োজন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব। কারণ কয়েক সেকেন্ডের একটি ভুয়ো ভিডিওও সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।