Cockroach Janata Party
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: কেবল সোশ্যাল মিডিয়ায় নয়, এবার সরাসরি প্রতিবাদের ময়দানে নেমে পড়ল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে (Cockroach Janata Party) দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ছাত্র-যুবকদের একাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন। শিক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম, পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে সংগঠনটি সরকারের সামনে পাঁচটি মৌলিক দাবি তুলে ধরে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিট-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে সিজেপি দাবি করেছে, দেশের যুবসমাজ আর নীরব দর্শক হয়ে থাকতে রাজি নয়। আন্দোলনকারীদের হুঁশিয়ারি, আগামী সাত দিনের মধ্যে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
তবে শুধুমাত্র শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ নয়, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, সংবাদমাধ্যম, নারী সংরক্ষণ এবং দলবদল বিরোধী আইন নিয়েও একাধিক দাবি তুলে ধরেছে সংগঠনটি।
১. বিচার বিভাগীয় সংস্কারের দাবি
সিজেপির প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। সংগঠনের বক্তব্য, অবসর গ্রহণের পর দেশের প্রধান বিচারপতি বা শীর্ষ বিচারপতিদের রাজ্যসভা কিংবা সরকারি পদে নিয়োগ নিয়ে বারবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এতে বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে।
তাই সংগঠনের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের কোনও প্রধান বিচারপতিকে অবসর গ্রহণের পর রাজ্যসভার সদস্য বা অন্য কোনও সরকারি পদে নিয়োগ করা যাবে না। বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতেই এই পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে তারা।
২. ভোটার তালিকা নিয়ে কঠোর জবাবদিহি
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাগরিকদের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বহু মানুষ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না।
এই পরিস্থিতিতে কোনও বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়লে সেটিকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সর্বোচ্চ কর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলা হয়েছে।
৩. সংসদ ও মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ নারী সংরক্ষণ
মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবিও তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের বক্তব্য, দেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জায়গাগুলিতে তাঁদের উপস্থিতি এখনও তুলনামূলকভাবে কম।
তাই লোকসভা, রাজ্যসভা এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। তবে এই সংরক্ষণের জন্য সংসদের মোট আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা যাবে না বলেও তারা জানিয়েছে।
৪. সংবাদমাধ্যম সংস্কারের দাবি
দেশের সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিয়েও সরব হয়েছে সিজেপি। সংগঠনের দাবি, সংবাদমাধ্যমকে রাজনৈতিক ও কর্পোরেট প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। পাশাপাশি কিছু প্রভাবশালী সংবাদ উপস্থাপক এবং মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিও জানিয়েছে তারা।
তাদের মতে, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৫. দলবদল রুখতে কঠোর আইন
রাজনীতিতে দলবদলের প্রবণতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ভোটারদের সমর্থন নিয়ে জিতে পরে দল পরিবর্তন করলে তা গণতন্ত্রের চেতনার পরিপন্থী।
সেজন্য কোনও সাংসদ বা বিধায়ক নিজের দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দিলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সিজেপি। সংগঠনের প্রস্তাব অনুযায়ী, এমন ব্যক্তিদের আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচন লড়া এবং সরকারি পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত।
৭ দিনের আলটিমেটাম
যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক। তিনি দাবি করেন, শনিবারের কর্মসূচিতে ৬ থেকে ৭ হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেছিলেন। আন্দোলন সফল হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অভিজিৎ দীপকের বক্তব্য, “দেশের যুবসমাজ এখন আর ভয় পায় না। আমাদের লড়াই এখানেই শেষ নয়। আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকার কোনও পদক্ষেপ না নিলে দেশজুড়ে আরও বড় আন্দোলন শুরু হবে।”
তিনি আরও জানান, আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে শীঘ্রই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমর্থকদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। ইতিমধ্যেই এই আন্দোলনে পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুকের সমর্থনও পাওয়া গিয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আপাতত সংগঠনটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়া-ভিত্তিক হলেও যন্তর মন্তরের সমাবেশ প্রমাণ করেছে যে যুবসমাজের একাংশের মধ্যে তাদের প্রভাব বাড়ছে। আগামী দিনে এই আন্দোলন কতটা বিস্তার লাভ করে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।