Nuclear Bomber Crash
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: শীতল যুদ্ধের দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ আমেরিকা ও রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম দুটি কৌশলগত বোমারু বিমান একই দিনে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একদিকে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি B-52 Stratofortress বোমারু বিমান ক্যালিফোর্নিয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রাশিয়ার একটি Tu-22M3 কৌশলগত বোমারু বিমান সাইবেরিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে প্রশিক্ষণ উড়ানের সময় ভেঙে পড়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, Tu-22M3 বোমারুটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল। উড়ানের মাঝেই প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারায় এবং ইরকুৎস্ক অঞ্চলের কামেঙ্কা গ্রামের কাছে ভেঙে পড়ে। চার সদস্যের ক্রু জরুরি ভিত্তিতে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিন বিকল হওয়াকেই দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে। বিমানটিতে কোনও যুদ্ধাস্ত্র ছিল না বলে জানিয়েছে মস্কো।
Tu-22M3 রাশিয়ার দীর্ঘ-পাল্লার সুপারসনিক বোমারু বিমান। ন্যাটো এটিকে “Backfire” নামে চেনে। এই বিমান Kh-22 ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং Kinzhal হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম। রাশিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও এটি বিবেচিত হয়।
অন্যদিকে আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, একই দিনে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি B-52 বোমারু বিমানও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। B-52 দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার কৌশলগত পারমাণবিক শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এই ঘটনায় দুই শীতল যুদ্ধকালীন প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বোমারু বিমানের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, B-52 এবং Tu-22M3—দুটি বিমানই কয়েক দশক পুরনো নকশার উপর ভিত্তি করে তৈরি। যদিও নিয়মিত আধুনিকীকরণ করা হয়েছে, তবুও বয়সজনিত প্রযুক্তিগত সমস্যার ঝুঁকি থেকেই যায়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার Tu-22M3 বহরে একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও সামনে এসেছে।
একই দিনে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক শক্তিধর দেশের কৌশলগত বোমারু বিমানের দুর্ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। যদিও দুই ঘটনার মধ্যে কোনও প্রত্যক্ষ সম্পর্কের প্রমাণ নেই, তবুও ঘটনাটি সামরিক বিমান নিরাপত্তা এবং পুরনো যুদ্ধবিমান বহরের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।