India Military Modernisation
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ভারতের ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি এবং প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ নিয়ে বড় মন্তব্য করলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব Pete Hegseth। সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সম্মেলন Shangri-La Dialogue-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ভারতকে “শক্তিশালী” দেশ (India Military Modernisation) হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, ভারত দ্রুতগতিতে তার সেনাবাহিনীকে আধুনিক করছে ও এমন শিল্প ও লজিস্টিক পরিকাঠামো গড়ে তুলছে যা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চস্তরের সামরিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
হেগসেথের বক্তব্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের ভূমিকা। তাঁর মতে, ভারত শুধু নিজের প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াচ্ছে না, বরং সমগ্র অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব আরও জানান, ওয়াশিংটন এবং নয়াদিল্লির মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যৌথ উৎপাদন বা co-production-এর মাধ্যমে উন্নত সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে দুই দেশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আমেরিকা এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা উৎপাদন ব্যবস্থাকেও নতুনভাবে শক্তিশালী (India Military Modernisation) করছে এবং সেই প্রক্রিয়ায় ভারতের সঙ্গে অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য শুধু কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, বরং ভারত-আমেরিকা প্রতিরক্ষা সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বেরও ইঙ্গিত। গত কয়েক বছরে QUAD জোট, ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং একাধিক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। ২০২৫ সালে দুই দেশের মধ্যে ১০ বছরের প্রতিরক্ষা কাঠামো চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়, যা প্রযুক্তি, তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ প্রতিরক্ষা উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
একই মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হেগসেথ চীনের দ্রুত সামরিক সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বেইজিংয়ের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অন্যান্য অংশীদার দেশগুলির ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, মার্কিন কৌশলগত পরিকল্পনায় ভারত এখন অন্যতম প্রধান নিরাপত্তা অংশীদার।
ভারত ইতিমধ্যেই সেনা আধুনিকীকরণ, দেশীয় প্রতিরক্ষা উৎপাদন, সমন্বিত থিয়েটার কমান্ড এবং উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির দিকে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগের অধীনে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো গড়ে তোলার কাজও চলছে। আন্তর্জাতিক মহলের একাংশের মতে, ভারতের এই সামরিক রূপান্তর আগামী দিনে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
হেগসেথের এই মন্তব্য এমন সময়ে এল, যখন মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ চীন সাগর এবং তাইওয়ান প্রণালীকে কেন্দ্র করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের এই প্রকাশ্য প্রশংসা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।