• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Wife Kills Husband Madhya Pradesh Case

‘পারফেক্ট ক্রাইম’ : ক্যামেরার সামনে স্বামীর মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়া স্ত্রীই খুনি

মধ্যপ্রদেশে স্বামীর খুনের পর কান্নায় ভেঙে পড়া স্ত্রীই শেষ পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত। ডাকাতির গল্প ছিল সাজানো নাটক।

‘পারফেক্ট ক্রাইম’ : ক্যামেরার সামনে স্বামীর মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়া  স্ত্রীই খুনি

Wife Kills Husband Madhya Pradesh Case

Published by: cloud_admin
  • Posted:April 11, 2026 3:23 am
  • Update:April 11, 2026 3:23 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি বাংলা ডেস্ক | মধ্যপ্রদেশ  : মধ্যপ্রদেশ থেকে সামনে এল এক চমকে দেওয়ার মতো ঘটনা, যেখানে স্বামীর মৃত্যুর পর কান্নায় ভেঙে পড়া এক স্ত্রীর আচরণই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠল সবচেয়ে বড় সন্দেহের কারণ। তদন্তে উঠে এসেছে—যে নারী নিজেকে শোকাহত দেখাচ্ছিলেন, তিনিই নাকি স্বামীর খুনের (Wife Kills Husband Madhya Pradesh Case) মূল অভিযুক্ত।

ঘটনাটি ঘটে ৭ এপ্রিল রাতে। ২৮ বছর বয়সী ব্যবসায়ী দেবকৃষ্ণ পুরোহিতকে নিজের বাড়িতেই মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল স্পষ্ট। প্রথমে তার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত পুলিশকে জানান, কিছু দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে লুটপাট চালায় এবং বাধা দিতে গেলে তার স্বামীকে খুন করে।

প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলেই মনে হচ্ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রায় ₹৩.৫ লক্ষ টাকার গয়না ও মূল্যবান জিনিসও খোয়া গিয়েছিল। কিন্তু তদন্ত যত এগোয়, ততই সামনে আসতে থাকে একের পর এক অসঙ্গতি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং প্রিয়াঙ্কার বয়ানে বেশ কিছু গরমিল ছিল। তার আচরণ, বক্তব্য এবং ঘটনার টাইমলাইন মিলিয়ে দেখতেই সন্দেহ বাড়তে থাকে তদন্তকারীদের। এরপর শুরু হয় গভীর জিজ্ঞাসাবাদ।

তদন্তে ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে প্রিয়াঙ্কার দেওয়া গল্প। পুলিশ জানতে পারে, পুরো ডাকাতির গল্পটি ছিল একটি সাজানো নাটক। আসলে, স্বামীকে খুন করার পর ঘটনাকে অন্যদিকে ঘোরাতে এই গল্প তৈরি করা হয়েছিল।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক—ঘটনার পর প্রিয়াঙ্কার কান্নার ভিডিও ক্যামেরায় ধরা পড়ে, যেখানে তিনি ভেঙে পড়া স্ত্রীর মতো আচরণ করছিলেন। কিন্তু তদন্তে সেই ‘শোক’ই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় সন্দেহের সূত্র।

পুলিশের অনুমান, খুনের পেছনে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা পারিবারিক দ্বন্দ্বই মূল কারণ হতে পারে, যদিও পুরো মোটিভ এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, তাও তদন্ত করা হচ্ছে।

এই ঘটনা আবারও সামনে আনল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা—অনেক সময় অপরাধীরা নিজেরাই ‘ভিকটিম’ সেজে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু আধুনিক ফরেনসিক তদন্ত, আচরণ বিশ্লেষণ এবং জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে সেই মুখোশ খুব দ্রুতই খুলে যায়।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনা শুধু একটি খুনের মামলা নয়—এটি দেখাল কীভাবে একটি ‘পারফেক্ট ক্রাইম’-এর চেষ্টাও শেষ পর্যন্ত সত্যের সামনে ভেঙে পড়ে। এখন নজর আদালতের দিকে—এই মামলায় কী শাস্তি হয়, সেটাই দেখার

আরও খবর