• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Pathankot CCTV Spy Case

পাঠানকোটে CCTV বসিয়ে সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তানে পাচার! গ্রেপ্তার যুবক

পাঞ্জাবের পাঠানকোটে সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর গতিবিধি নজরদারির অভিযোগে বলজিৎ সিং নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, জাতীয় সড়কের পাশে CCTV ক্যামেরা বসিয়ে সেই ফুটেজ পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হত।

পাঠানকোটে CCTV বসিয়ে সেনা চলাচলের তথ্য পাকিস্তানে পাচার! গ্রেপ্তার যুবক

Pathankot CCTV Spy Case

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 22, 2026 6:05 am
  • Update:May 22, 2026 6:05 am
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: পাঞ্জাবের পাঠানকোটে একটি সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তির ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সেনা ও আধাসামরিক বাহিনীর চলাচলের তথ্য পাকিস্তানে পাঠানোর অভিযোগে বলজিৎ সিং ওরফে বিট্টু নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার (Pathankot CCTV Spy Case) করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি জাতীয় সড়কের পাশে ইন্টারনেট সংযুক্ত CCTV ক্যামেরা বসিয়ে ভারতীয় বাহিনীর গতিবিধি নজরদারি করতেন এবং সেই ফুটেজ সীমান্তের ওপারে পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাতেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত বলজিৎ সিং পাঞ্জাবের পাঠানকোট জেলার চক ধরিওয়াল গ্রামের বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি পাঠানকোট–জম্মু জাতীয় সড়ক (NH-44)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে একটি দোকানে CCTV ক্যামেরা বসিয়েছিলেন। এই রাস্তা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়, কারণ এই রুট দিয়ে নিয়মিত ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনীর যানবাহন চলাচল করে।

তদন্তকারীদের মতে, প্রথমদিকে CCTV বসানোকে সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে যে ক্যামেরার মাধ্যমে সংগ্রহ করা ভিডিও ফুটেজ সন্দেহজনকভাবে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে। এরপরই নজরদারি বাড়ানো হয় এবং তদন্ত শুরু হয়।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে ওই CCTV ক্যামেরাগুলি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরাসরি সংযুক্ত ছিল। এর ফলে রিয়েল-টাইম বা সরাসরি লাইভ ফিড বিদেশে থাকা কিছু ব্যক্তির কাছে পৌঁছে যেত বলে অভিযোগ। নিরাপত্তা সংস্থার দাবি, এই ফুটেজের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর গাড়ির সংখ্যা, চলাচলের সময় এবং বিভিন্ন গতিবিধি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হত।

তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, পাকিস্তানে থাকা কিছু হ্যান্ডলারের সঙ্গে অভিযুক্তের যোগাযোগ ছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই কাজের বিনিময়ে অভিযুক্ত অর্থও পেয়েছিলেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি প্রায় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেয়েছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। যদিও তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এই ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি আরও উদ্বিগ্ন কারণ এটি কোনও একক ব্যক্তির কাজ নাও হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা সন্দেহ করছেন, এর সঙ্গে আরও কয়েকজন যুক্ত থাকতে পারেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন সন্দেহভাজনের খোঁজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় স্তরে কোনও সহযোগী ছিল কি না, বিদেশে বসে কারা এই গোটা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করছিল, সেই বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পাঠানকোট বরাবরই নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। অতীতে এখানকার বিমানঘাঁটি এবং অন্যান্য সামরিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। ফলে এই নতুন ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি আরও সতর্ক হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তির ব্যবহার যেমন সাধারণ মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই নিরাপত্তা ব্যবস্থার সামনে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করেছে। CCTV-এর মতো সাধারণ প্রযুক্তিকেও ভুল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতে পারে, আর এই ঘটনাটি সেই আশঙ্কাকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

বর্তমানে পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে আরও বড় কোনও আন্তঃসীমান্ত গুপ্তচর চক্র রয়েছে কি না, সেটাই এখন তদন্তের অন্যতম প্রধান বিষয়।

আরও খবর