Mahender Makhijani Bank Fraud
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক ব্যবসায়ীকে ঘিরে সামনে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ (Mahender Makhijani Bank Fraud) । ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা মহেন্দর মাখিজানির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন, যৌন পার্টি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার আড়ালে গড়ে তুলেছিলেন এক বিশাল প্রতারণা চক্র। মার্কিন তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তাঁর কর্মকাণ্ডের ফলে একটি ব্যাঙ্কের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলার বা ৮০০ কোটিরও বেশি ভারতীয় টাকা।
মার্কিন আদালতে জমা পড়া অভিযোগপত্র অনুযায়ী, মাখিজানি ও তাঁর সহযোগীরা একাধিক ভুয়ো সম্পত্তি সংক্রান্ত নথি, জাল আর্থিক বিবরণ এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ব্যবহার করে বিপুল অঙ্কের ঋণ সংগ্রহ করেছিলেন। অভিযোগ, ঋণ পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সম্পদের মূল্য ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখানো হয় এবং আর্থিক অবস্থার ভুল ছবি তুলে ধরা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে আরও বিস্ফোরক তথ্য। অভিযোগ করা হয়েছে, ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর নামে নিয়মিতভাবে ব্যক্তিগত পার্টির আয়োজন করতেন মাখিজানি। সেইসব অনুষ্ঠানে মদ, বিলাসিতা এবং যৌনকর্মীদের উপস্থিতি থাকত বলে তদন্তকারীদের দাবি। পরবর্তীকালে ওই পার্টিতে উপস্থিত কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ফেডারেল তদন্তকারী সংস্থার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংস্থার কর্মীদের উপরও প্রবল চাপ সৃষ্টি করা হতো। প্রাক্তন কর্মীদের একাংশ অভিযোগ করেছেন, কোনও নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি খোয়ানোর পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হতো। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও তদন্তকারীদের নজরে এসেছে।
এই মামলায় মাখিজানিকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাঙ্ক জালিয়াতি, আর্থিক প্রতারণা, ষড়যন্ত্র, জাল নথি ব্যবহার এবং ব্ল্যাকমেলের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন বিচার ব্যবস্থায় এই ধরনের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড এবং বিপুল অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে আসা আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলির মধ্যে এই মামলাটি অন্যতম বড়। কারণ এখানে শুধু আর্থিক প্রতারণা নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, প্রভাব খাটানো এবং সম্ভাব্য ব্ল্যাকমেলিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগও জড়িয়ে রয়েছে।
তবে আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তকে আইনত দোষী বলা যায় না। তদন্ত এখনও চলছে এবং আগামী দিনে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন।