Hyderabad Missing Couple
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: হায়দরাবাদের এক দম্পতির সুইজারল্যান্ড সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। পরিবারের দাবি, বেড়াতে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই তাঁদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অন্যদিকে, তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, ওই দম্পতি ভ্রমণের আগে বহু বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে নিখোঁজের ঘটনাকে ঘিরে এখন আর্থিক প্রতারণার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিখোঁজ দম্পতি হলেন পাব্বা চন্দ্রশেখর (৫১) এবং তাঁর স্ত্রী স্বপ্না (৪২)। পরিবারের অভিযোগ, তাঁরা ২২ জুন সুইজারল্যান্ডে বেড়াতে যান। প্রথম দিকে নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও ৮ জুলাইয়ের পর থেকে তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং এরপর আর কোনও খোঁজ মেলেনি।
দম্পতির মেয়ে শ্রেয়া পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছেন, তাঁর বাবা-মা ছুটি কাটাতে সুইজারল্যান্ডে গিয়েছিলেন। প্রথম কয়েকদিন তাঁরা পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলেন। কিন্তু ৮ জুলাইয়ের পর হঠাৎ করেই যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বারবার ফোন করেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। মোবাইল ফোন হয় বন্ধ ছিল, নয়তো নেটওয়ার্কের বাইরে দেখাচ্ছিল। এরপরই পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।
নিখোঁজের তদন্ত চলাকালীন পুলিশ জানতে পারে, চন্দ্রশেখর ও তাঁর স্ত্রী স্থানীয়ভাবে বিনিয়োগের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ, তাঁরা ৬০ জনেরও বেশি মানুষের কাছ থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিলেন।
তবে পুলিশ এখনও স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অর্থ সংগ্রহের অভিযোগের তদন্ত চলছে। এখনও পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আদালতের রায় হয়নি। তদন্তে আর্থিক লেনদেনের নথি, বিনিয়োগকারীদের বক্তব্য এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের একাংশের মতে, নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা এবং আর্থিক অভিযোগ—দুটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
হায়দরাবাদ পুলিশ কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তদন্ত চালাচ্ছে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থার সহযোগিতাও নেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
তদন্তকারীরা দম্পতির ভ্রমণ নথি, বিমান যাত্রার তথ্য, হোটেল বুকিং, ব্যাংক লেনদেন এবং বিদেশে তাঁদের গতিবিধি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
অন্যদিকে, বহু বিনিয়োগকারীও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। তাঁদের দাবি, দম্পতির কাছ থেকে দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মুনাফার আশ্বাস পেয়েছিলেন। এখন তাঁদের টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবে এই দাবিগুলিও এখনও তদন্তাধীন।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, প্রতারণা বা স্বেচ্ছায় আত্মগোপনের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। ফলে বিভিন্ন সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের একটাই দাবি—দ্রুত তাঁদের খুঁজে বের করা হোক। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরাও জানতে চাইছেন, তাঁদের অর্থের ভবিষ্যৎ কী হবে।
নিখোঁজের রহস্য এবং আর্থিক অভিযোগ—এই দুই প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের ওপরই নির্ভর করছে। পুলিশ জানিয়েছে, সব তথ্য যাচাই করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।