Asaram Case Jodhpur Court
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: স্বঘোষিত ধর্মগুরু আশারামের আইনি লড়াইয়ে বড় ধাক্কা এল। রাজস্থান হাইকোর্ট তাঁর জন্য বড় কোনও স্বস্তি না দিয়ে দ্রুত যোধপুরে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত তাঁর (Asaram Case Jodhpur Court) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখেছে, ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা মামলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি হয়েছে।
এই মামলার সূত্রপাত ২০১৩ সালে। অভিযোগ ছিল, যোধপুরের আশ্রমে থাকা এক নাবালিকা ছাত্রীর উপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়েছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় এবং ওই বছরই আসারামকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ার পর ২০১৮ সালে বিশেষ POCSO আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসারাম এবং তাঁর সহযোগীরা উচ্চ আদালতে আবেদন করেছিলেন। সাম্প্রতিক শুনানিতে রাজস্থান হাইকোর্ট মামলার বিভিন্ন দিক এবং প্রমাণ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত জানায়। আদালত আশারামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপরাধে সাজা বহাল রাখলেও কিছু ধারায় পরিবর্তন এনেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তিও দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছরে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে আশারাম একাধিকবার অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন করেছিলেন। আদালত অতীতে কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসার ভিত্তিতে অস্থায়ী স্বস্তি দিলেও এবার আদালত তাঁর আত্মসমর্পণের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে।
এই মামলা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। শুধু আইনি লড়াই নয়, মামলার সাক্ষী, তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ঘিরেও বহু বিতর্ক সামনে আসে। বিভিন্ন সময়ে সাক্ষীদের উপর হামলার অভিযোগও ওঠে। ফলে মামলাটি ভারতের বহুল আলোচিত ফৌজদারি মামলাগুলির একটি হয়ে ওঠে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় আবারও দেখাল যে বহু বছর ধরে চলা উচ্চপ্রোফাইল মামলাতেও আদালত প্রমাণ ও আইনি প্রক্রিয়ার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে শিশু সুরক্ষা আইন বা POCSO আইনের গুরুত্বও এই মামলার মাধ্যমে আরও একবার সামনে এসেছে।