AI Cost Crisis
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: গত দুই-তিন বছরে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে একপ্রকার প্রযুক্তিগত বিপ্লব। বিভিন্ন কোম্পানি মনে করেছিল AI তাদের উৎপাদনশীলতা বাড়াবে, কর্মীদের কাজ সহজ করবে এবং দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমাবে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি এখন কিছুটা ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি সংস্থা মাইক্রোসফট এবং উবারের মতো কোম্পানিগুলি এখন AI ব্যবহারের বিপুল ব্যয় (AI Cost Crisis) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে।
একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, AI-এর জন্য ডেটা সেন্টার, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন চিপ, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং সফটওয়্যার অবকাঠামোতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করা হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে, ২০২৫ সালে মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যামাজন এবং অ্যালফাবেট সম্মিলিতভাবে প্রায় ৩২০ বিলিয়ন ডলার AI অবকাঠামোর পিছনে ব্যয় করেছে।
তবে সমস্যা হচ্ছে AI-এর ব্যবহারের খরচ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক দ্রুত বাড়ছে। AI মডেল সাধারণত “টোকেন” ভিত্তিক মূল্য কাঠামোতে কাজ করে। অর্থাৎ যত বেশি ব্যবহার হবে, তত বেশি খরচ বাড়বে। কোম্পানিগুলি প্রথমে ভেবেছিল প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, তত খরচ কমবে। কিন্তু ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মোট ব্যয়ও অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
উবারের ক্ষেত্রেও একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি AI-ভিত্তিক কোডিং টুল ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত ২০২৬ সালের বাজেট মাত্র চার মাসের মধ্যেই প্রায় শেষ করে ফেলেছে। ফলে সংস্থার অভ্যন্তরে প্রশ্ন উঠছে— AI সত্যিই কি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হচ্ছে, নাকি এটি নতুন ধরনের ব্যয়ের চাপ তৈরি করছে?
অন্যদিকে মাইক্রোসফটও AI টুল ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুনভাবে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ AI ব্যবহারের খরচ বেড়ে যাওয়ার ফলে কিছু পরিষেবার ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, AI-এর সমস্যা প্রযুক্তিগত নয়, বরং অর্থনৈতিক। AI ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়লেও সেই বৃদ্ধি কতটা আর্থিকভাবে লাভজনক হচ্ছে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। অনেক ক্ষেত্রে AI সিস্টেমকে চালানোর জন্য এত বেশি কম্পিউটিং শক্তি ও বিদ্যুতের প্রয়োজন হচ্ছে যে সামগ্রিক ব্যয় বেড়েই চলেছে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে AI-এর যুগ শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, কোম্পানিগুলিকে এখন আরও পরিকল্পিতভাবে AI ব্যবহার করতে হবে। কোন ক্ষেত্রে AI সত্যিই কার্যকর এবং কোথায় মানুষের দক্ষতা বেশি প্রয়োজন, সেই ভারসাম্য তৈরিই আগামী দিনের বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।