Shraddha Biswas Arrested
ক্লাউড টিভি ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা মাওবাদী নেত্রী Shraddha Biswas ওরফে ‘বেলা’-কে গ্রেফতার করে বড় সাফল্যের দাবি করল কলকাতা পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, প্রায় দুই দশক ধরে তিনি মাওবাদী সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন এবং বিভিন্ন এলাকায় পরিচয় গোপন রাখতে অন্তত পাঁচটি ভিন্ন নাম ব্যবহার করতেন (Shraddha Biswas Arrested)।
পুলিশ সূত্রে খবর, গোপন সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর কলকাতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর উপর নজরদারি চলছিল। তদন্তকারীদের মতে, ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম, পশ্চিম সিংভূম, ঘাটশিলা-সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় তিনি সক্রিয় ছিলেন।
পুলিশের দাবি, শ্রদ্ধা বিশ্বাস শুধুমাত্র সংগঠনের সদস্য হিসেবেই কাজ করেননি, বরং মাওবাদী নেটওয়ার্কের যোগাযোগ রক্ষা, সদস্য সংগ্রহ, বার্তা আদানপ্রদান এবং সংগঠনের কৌশলগত কার্যকলাপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তদন্তকারীদের সন্দেহ, দীর্ঘ সময় ধরে নিরাপত্তাবাহিনীর নজর এড়াতেই তিনি একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।
তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সময়ে তিনি ‘বেলা’ ছাড়াও আরও একাধিক নামে পরিচিত ছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে চিহ্নিত করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে বলে মনে করছে পুলিশ। নিরাপত্তা আধিকারিকদের মতে, মাওবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে পরিচয় গোপন রাখার এই কৌশল নতুন নয়। তবে শ্রদ্ধার ক্ষেত্রে বিষয়টি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ছিল।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঝাড়খণ্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তার মধ্যে অস্ত্র আইন, রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি, হামলা এবং মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয় যোগের অভিযোগও রয়েছে। ঝাড়খণ্ড পুলিশ তাঁর মাথার উপর ১৫ লক্ষ টাকার পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের।
তদন্তকারীদের বক্তব্য, এর আগেও ২০০৪-০৫ সালে পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবার সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করেন বলে অভিযোগ। এরপর ধীরে ধীরে ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি।
নিরাপত্তা মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন এলাকায় মাওবাদী সংগঠনগুলি নতুন করে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী জঙ্গল এলাকা এবং খনিজ সম্পদ সমৃদ্ধ অঞ্চলে সংগঠনের কার্যকলাপ বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে শ্রদ্ধা বিশ্বাসের গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত নেত্রীর কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর সঙ্গে আর কারা যুক্ত, কোথায় কোথায় সংগঠনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে কোনও নতুন পরিকল্পনা ছিল কি না, তা জানতেই জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এদিকে এই গ্রেফতারির পর ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে বলে খবর। তদন্তকারীরা মনে করছেন, এই ঘটনার মাধ্যমে মাওবাদী সংগঠনের একাধিক গোপন যোগসূত্র সামনে আসতে পারে।