• ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
  • বৃহস্পতিবার
  • ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Sanjeev Sanyal Kolkata

“পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের চাবিকাঠি কলকাতা”, বড় মন্তব্য মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা Sanjeev Sanyal-এর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা Sanjeev Sanyal বলেছেন, পূর্ব ভারতের উন্নয়ন সম্ভব নয় যদি কলকাতাকে ফের শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা না যায়। তাঁর মতে, ভারতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বৈষম্য পূর্ব ও পশ্চিম ভারতের মধ্যে, আর সেই সমস্যার সমাধানে কলকাতাকেই “অ্যাঙ্কর ইঞ্জিন” হিসেবে কাজ করতে হবে।

“পূর্ব ভারতের পুনর্জাগরণের চাবিকাঠি কলকাতা”, বড় মন্তব্য মোদীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা Sanjeev Sanyal-এর

Sanjeev Sanyal Kolkata

Published by: cloud_admin
  • Posted:May 9, 2026 2:30 pm
  • Update:May 9, 2026 2:30 pm
  • Facebook
  • Telegram
  • X
  • Whatsapp

ক্লাউড টিভি ডেস্ক: “পূর্ব ভারতের উন্নয়নের রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কলকাতার পুনর্জাগরণে”— এমনই তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র অর্থনৈতিক উপদেষ্টা Sanjeev Sanyal। তাঁর বক্তব্য, ভারতের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক বিভাজন উত্তর-দক্ষিণ নয়, বরং পূর্ব-পশ্চিমের মধ্যে। আর সেই বৈষম্য দূর করতে হলে কলকাতাকে (Sanjeev Sanyal Kolkata) আবার দেশের অন্যতম শিল্প ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

মুম্বইয়ে “The Relative Economic Performance of Bharatiya States” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সঞ্জীব সান্যাল এই মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে বড় আলোচনা তৈরি করেছে।

মুম্বইয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সঞ্জীব সান্যাল বলেন, “ভারতের আসল অর্থনৈতিক সংকট উত্তর-দক্ষিণ বিভাজন নয়, বরং পূর্ব-পশ্চিম বিভাজন। এই সমস্যার সমাধান করতে গেলে কলকাতাকে আবার শিল্প ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে ফিরিয়ে আনতে হবে।”

তাঁর মতে, পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি শক্তিশালী নগর কেন্দ্র প্রয়োজন, আর সেই ভূমিকা পালন করার জন্য ঐতিহাসিকভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত শহর কলকাতা।

সান্যাল বলেন, “কলকাতার দীর্ঘ গৌরবময় ইতিহাস রয়েছে। গত অর্ধশতকের পতনের পরও এই শহরের মধ্যে এখনও সম্ভাবনা রয়েছে।”

সঞ্জীব সান্যালের মতে, ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সংস্কারের পর পশ্চিম ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি দ্রুত এগিয়ে গেলেও পূর্ব ভারত সেই গতিতে উন্নতি করতে পারেনি। তিনি দাবি করেন, একসময় দেশের অর্থনীতিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান ছিল প্রায় ১১ শতাংশ, যা বর্তমানে কমে প্রায় ৫.৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, কলকাতা একসময় পূর্ব ভারতের শিল্প, বাণিজ্য ও সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র ছিল। কিন্তু গত কয়েক দশকে শিল্পহ্রাস, পরিকাঠামোর দুর্বলতা এবং প্রতিভা পাচারের কারণে শহরের অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে।

তিনি বলেন, “পূর্ব ভারতের সমস্যা হল, কলকাতা বহু বছর ধরে এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ইঞ্জিন হিসেবে কাজ করছে না।”

সঞ্জীব সান্যাল মনে করেন, কলকাতার পুনর্জাগরণ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থে নয়, বরং ভারতের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণের জন্যও অত্যন্ত জরুরি।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যদি ভারত আগামী কয়েক দশকে ৭-৮ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির হার বজায় রাখতে চায় এবং “Viksit Bharat 2047”-এর লক্ষ্য পূরণ করতে চায়, তবে পূর্ব ভারতকে দ্রুত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে। আর তার জন্য কলকাতাকেই “অ্যাঙ্কর ইঞ্জিন” হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে কলকাতা আবারও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হয়ে উঠতে পারে।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি দ্রুত বদলেছে। বিজেপির উত্থান এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের আবহে কলকাতার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সঞ্জীব সান্যালের এই মন্তব্য শুধুমাত্র অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ নয়, এর মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও নীতিগত বার্তাও।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, আগামী দিনে কেন্দ্র পূর্ব ভারতের পরিকাঠামো, বন্দর, শিল্প ও রফতানি বৃদ্ধির উপর আরও জোর দিতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কলকাতার পুনর্জাগরণের জন্য শুধুমাত্র রাজনৈতিক সদিচ্ছা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ, আধুনিক পরিকাঠামো, দ্রুত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে গভীর সংযোগ।

তবে সঞ্জীব সান্যালের মন্তব্যের পর নতুন করে প্রশ্ন উঠছে— কলকাতা কি আবারও দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিকেন্দ্র হয়ে উঠতে পারবে?

আরও খবর